করোনাকালীন ঈদে স্বস্তির নিঃশ্বাস হাতিরঝিলে

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মে ২০২১, ১৮:৫৮


করোনাকালীন ঈদে স্বস্তির নিঃশ্বাস হাতিরঝিলে

হাতিরঝিলে ঈদ আনন্দে ঘুরতে এসেছেন রাজধানীবাসী/ ছবি- ঢাকা পোস্ট

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। চলমান বিধিনিষেধ ও ব্যস্ততার কারণে অনেকেই এবার ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগ করতে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি। রাজধানীতে থাকলেও ঈদ ঠিকই আনন্দ বয়ে এনেছে। ঈদের জামাত শেষে দুপুরের খাবারের পর পরিবার-পরিজন নিয়ে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন রাজধানীবাসীরা।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন তারা। করোনা পরিস্থিতিতে ঈদে রাজধানীর অধিকাংশ বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে রাজধানীবাসীর কাছে ঈদে বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে হাতিরঝিল গুরুত্ব পাচ্ছে আলাদাভাবে। 

বিকেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীবাসীর ঢল নেমেছে হাতিরঝিলে। বিনোদনপ্রেমীরা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে শিশু-কিশোরসহ পরিবারের লোকজন নিয়ে হাজির হয়েছেন হাতিরঝিলে। বিনোদনপ্রেমীদের ঢলে এখন কানা কানায় পূর্ণ হাতিরঝিল।

শুক্রবার (১৪ মে) বিকেলে হাতিরঝিল ঘুরে দেখা যায়, ঈদের নতুন পোশাক পরে হাতিরঝিল প্রজেক্টের গুলশান-১ নম্বর অংশ থেকে এফডিসি অংশ পর্যন্ত বিনোদনপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউবা পরেছেন পাঞ্জাবি, কেউ শার্ট-প্যান্ট, কেউবা সালোয়ার-কামিজ। আবার কেউবা পরেছেন শাড়ি। রঙ-বেরঙের নতুন পোশাক পরে পরিবার নিয়ে হাতিরঝিলের ওয়াটারট্যাক্সিতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন অনেকে। কেউবা চক্রাকার বাসে করে হাতিরঝিল ঘুরছেন। তবে অধিকাংশ মানুষকে হাতিরঝিলের রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে ঘুরতে দেখা গেছে। 

এদিকে বিনোদনপ্রেমীদের আগমনকে কেন্দ্র করে হাতিরঝিলের মোড়ে মোড়ে বসেছে চটপটি, ফুচকা থেকে শুরু করে বাচ্চাদের খেলনার ভাসমান দোকান। বিনোদনপ্রেমীরা ফুচকা-চটপটি খাচ্ছেন। বাচ্চারা বাবা-মার কাছে আবদার করছে ভাসমান খেলনার দোকান থেকে খেলনা কিনে দিতে। বাচ্চাদের আবদারে গ্যাস বেলুনসহ নানা রকম খেলনা কিনে দিচ্ছেন বাবা-মা। 

হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা বিনোদনপ্রেমীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে করোনাভাইরাসের চলমান পরিস্থিতির কারণে ঈদ আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়েছে। ‌এছাড়া চলমান বিধিনিষেধের কারণে অনেকে যেতে পারেননি বাড়িতে। ফলে বর্তমান দমবন্ধ করা পরিবেশের মধ্যেও একটু স্বস্তি ও ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য মানুষজন এসেছেন হাতিরঝিলে। 

রাজধানীর রামপুরা থেকে আব্দুর রব স্ত্রী ও ছেলে নিয়ে এসেছেন হাতিরঝিলে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে। তিনি বলেন, বিধিনিষেধের কারণে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাওয়া হয়নি। দুপুরের পর থেকেই আমার ছেলেটা বাইরে ঘুরতে যাবে বলে বায়না করছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ভয়ে প্রথমে বের হতে চাচ্ছিলাম না। তবে ছেলেটার বায়না দেখে শেষ পর্যন্ত বের হয়েছি, হাতিরঝিলে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছে। তবে অনেক মানুষের ভিড় দেখে একটু ভয় লাগছে।

রাজধানীর মিরপুর থেকে ফারিয়া রহমান স্বামী ও দুই ছেলেমেয়ে সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন হাতিরঝিলে। তিনি বলেন, ঈদের দিন ঘরে বসে থাকা যায়‌? একটু ঘোরাফেরা না করলে তো ঈদ মনে হয় না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাতিরঝিলে এসেছি। এসে ভালোই লাগছে। 

কিশোর সিজান হোসেন, অপু আহমেদ, আরিফ খন্দকার ও সুমন চৌধুরী রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে হাতিরঝিল এসেছে ঈদ আনন্দে ঘোরাঘুরি করতে। তারা হাতিরঝিলের এফডিসির অংশ থেকে ওয়াটারট্যাক্সিতে গুলশান গুদারাঘাট অংশে এসেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের নামাজর পর ঘরেই ছিলেন। বিরক্ত লাগছিল বলে বন্ধুরা মিলে হাতিরঝিল ঘুরতে এসেছে। হাতিরঝিলে এসে তারা প্রথমে চক্রাকার বাসে পুরো হাতিরঝিল প্রজেক্টে চক্কর দিয়েছে। পরে চার বন্ধু মিলে ভাসমান দোকান থেকে ফুচকা খেয়েছে। ফুচকা খাওয়ার পর ওয়াটারট্যাক্সিতে ঘুরেছে তারা।

এদিকে ঈদে আনন্দ করতে হাতিরঝিলে আসা অনেকের মধ্যেই দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা। কিছু স্থানে উপেক্ষিত হচ্ছে সামাজিক দূরত্বও। 

এমএসি/এইচকে

Link copied