সাদিক অ্যাগ্রো থেকে উদ্ধার করা খালের জমি দখল করে ফের বহুতল ভবন

ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসা সাদিক অ্যাগ্রোর খামার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর খাল দখল করে আবারও বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। তাও আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায়।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, এনফোর্সমেন্ট
টিম প্রথমে ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয় (অঞ্চল–৫) পরিদর্শন করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে। পরে সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে রামচন্দ্রপুর খালের জায়গা সরেজমিন পরিদর্শন করে টিম।
সরকারি খাস জমির ওপর ভবনটি নির্মিত হচ্ছে কিনা তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে টিম কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রামচন্দ্রপুর খালের উদ্ধার করা জায়গা আবার বেদখল হয়ে গেছে। গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধ সড়কের সাতমসজিদ হাউজিংয়ের ১ নম্বর সড়কে বহুল আলোচিত-বিতর্কিত সাদিক অ্যাগ্রো খামারের স্থাপনা খালের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এবার সেই জায়গাকে ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে জোরেশোরে চলছে সুবিশাল ১০তলা ভবন নির্মাণের কাজ। তবে এতে এখনো বাধা দেয়নি ডিএনসিসি।
সূত্র জানায়, কোটি টাকার ‘উচ্চবংশীয়’ গরু এবং ‘১৫ লাখ টাকার’ ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসা সাদিক অ্যাগ্রোর খামারটি গত বছরের ২৭ জুন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সেই জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন বেশ কয়েকজন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, খালের জায়গা দখলের অভিযোগেই যদি সাদিক অ্যাগ্রোকে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে সেই জায়গায় কীভাবে এখন বহুতল ভবন হচ্ছে। সাদিক অ্যাগ্রোর স্থাপনা উচ্ছেদের পর ফাঁকা হওয়া সে জায়গাটি চারটি আলাদা প্লটে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে খালের পশ্চিম পাশের প্রথম ও দ্বিতীয় প্লটে রয়েছে অটোরিকশার দুটি গ্যারেজ। সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা তৃতীয় প্লটটির ভেতরে ফাঁকা। আর চতুর্থ প্লটে উঠছে সুবিশাল বহুতল ভবন। খালের মাটি ভরাট করা যে জায়গা সিটি করপোরেশন পিলার গেড়ে চিহ্নিত করেছিল, এই চারটি প্লট সেই পিলারের বাইরে হাউজিং এলাকার ভেতরেই অবস্থিত।
পশ্চিম পাশের প্রথম প্লটের মালিকানা দাবি করেছেন আব্দুল আলীম তালুকদার নামে একজন। দ্বিতীয় প্লটটির মালিক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছেন প্রয়াত আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহানা আজাদ ও তার দুই ছেলে। তারা উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। খালি থাকা তৃতীয় প্লটের মালিকানা দাবি করছেন বসির আহমেদ। বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলা চতুর্থ প্লটের মালিকানার দাবিদার মোহাম্মদ আলী আকন্দ নামে একজন। এই চারজনের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েই সাদিক অ্যাগ্রোর খামারটি গড়ে তুলেছিলেন ইমরান আহমেদ।
আরএম/এমএন