কর্ণফুলী গ্যাসে আ.লীগপন্থি হত্যা মামলার আসামিরা পেলেন পদোন্নতি!

চট্টগ্রামের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (কেজিডিসিএল) সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া কয়েকটি পদোন্নতি ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা, হত্যাসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের অনেকটা গোপনে উপব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
যাদের পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তারা হলেন- মো. ফারুক আহমদ, সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহ ও কাউছার নুর লিটন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তাদের নাম রয়েছে। এসব তথ্য গোপন রেখে পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
মো. ফারুক আহমদ বর্তমানে উপব্যবস্থাপক পদে কর্মরত। তিনি এর আগে সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) ছিলেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তিনি আসামি। মামলায় তিনি জামিনও নেননি। এ ছাড়া, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী রাজনৈতিক পদে সক্রিয় থাকা নিষিদ্ধ হলেও বিষয়টি গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মো. ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে চাকরিতে প্রবেশের সময় বয়সসীমা অতিক্রম করার অভিযোগ রয়েছে। বয়সসীমা পার হওয়ার পর তিনি পিতার নামে দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদের সুবিধা নেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় যাচাই শেষে সনদটি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও সে সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার জন্মতারিখ অনুযায়ী চাকরিতে প্রবেশের সময় বয়স নির্ধারিত সীমার বেশি ছিল বলে নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সহকারী প্রকৌশলী (কারিগরি) সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ ও পটিয়া থানায় মোট তিনটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় তার বয়সসীমা অতিক্রম করার বিষয়টিও গোপন করা হয়েছে। তিনি পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
অন্যদিকে, গত ১ ডিসেম্বর সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) থেকে উপব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন কাউছার নুর লিটন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
কেজিডিসিএলের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার পদোন্নতির পেছনে কর্ণফুলী গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন মাসুদ ভূমিকা রেখেছেন। পদোন্নতি কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বয়স ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই না করে কিংবা গোপন রেখে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।
তিনি আরও বলেন, সার্ভিস রুলস ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা, বয়সসীমা অতিক্রম এবং রাজনৈতিক পদে সক্রিয় থাকা পদোন্নতির ক্ষেত্রে অযোগ্যতার শামিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পদোন্নতি পাওয়া সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহ ও কাউছার নুর লিটনকে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া
উপব্যবস্থাপক মো. ফারুক আহমদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যা। একটি মহল অপপ্রচার করছে। তখন জবাবে মামলার প্রমাণপত্র আছে জানানো হলে তিনি আর মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এমআর/এমজে