আগামী নির্বাচন ভন্ডুলের আশঙ্কা রয়েছে : ফেমার প্রেসিডেন্ট

নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে, নির্বাচন ঠেকিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মনিরা খান। তিনি বলেছেন, অনেকে চায় ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হোক। আগামী নির্বাচন ভন্ডুলের আশঙ্কা রয়েছে। যারা ভন্ডুল করতে চায় তাদের প্রতিহত করতে হবে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।
মুনিরা খান বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ জরুরি। থ্রি এম- মানি, মাসল ও ম্যানিপুলেশনের চ্যালেঞ্জ রোধে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীলতা এবং জনসচেতনতা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি ভালো নির্বাচনের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক দুই সিইসি নূরুল হুদা ও হাবিবুল আওয়াল সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ করতে পারতেন। তারা শপথ ভঙ্গ করে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করেছেন। কেবল মার্কা দেখে নয়, ইশতেহার ও প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দেওয়া উচিত। তা না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারতো নয়ই, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার বিধানটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি পরিবর্তন করা উচিত। জুলাই সনদে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নে সব দল সম্মত হলেও বাস্তবে কেউই তা রক্ষা করেনি। জামায়াতে ইসলামী একজনও নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় আমি অসন্তুষ্ট।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের রায়। দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিতে না পারার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ লাঘবের সুযোগ পাবে ভোটাররা। প্রকৃত ভোটের মাধ্যমে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এবারের নির্বাচনে। জাতি কলঙ্কিত নির্বাচনের কালিমা থেকে মুক্ত হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে তৈরি হবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রে মানুষ নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে থাকবে। যার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, তবে কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। সুশাসন ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা সম্ভব না হলে শুধু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারবে না। নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়। সাধারণ মানুষ নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছ থেকে একটু স্বস্তি চায়, শান্তি চায়, চায় সংসারের খরচের হিসাব মিলাতে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চায়। চায় স্বাস্থ্য সেবা। সাধারণ মানুষের চাওয়া খুবই স্বল্প। তাদের স্বস্তিতে রাখলে, শান্তিতে রাখলে, ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়ন হলেই তারা সন্তুষ্ট।
ছায়া সংসদে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, মশিউর রহমান খান, জাকির হোসেন লিটন ও কাওসারা চৌধুরী কুমু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
এমএইচএন/এমএন