নতুন চার র্যাম্প যুক্ত, সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয়

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চারটি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। নতুন র্যাম্পে যোগাযোগ সুবিধা বাড়বে বলে আশা করা হলেও নকশার বাইরে এই সংযোজন প্রকল্পের সময় ও ব্যয় আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আংশিকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও নানা প্রশাসনিক, কারিগরি ও আইনি জটিলতায় প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ বাকি রয়েছে। সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে নকশায় উড়াল সড়কে ওঠা-নামার জন্য ৩১টি র্যাম্প রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। এবার পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক, মহাখালী বাস টার্মিনাল, রামপুরা-আফতাবনগর-খিলগাঁও সংযোগ এবং মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আরও চারটি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালে বর্তমানে শুধু নামার র্যাম্প রয়েছে, সেখানে নতুন করে ওঠার র্যাম্প যুক্ত হবে। অন্য তিনটি স্থানে ওঠা-নামা উভয় সুবিধা থাকবে। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ দিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সম্প্রসারণ করতে হতে পারে, যা প্রকল্পের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মূল নকশার বাইরে নতুন র্যাম্প যুক্ত করার ক্ষেত্রে কাঠামোগত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া র্যাম্প বাড়ালে যানজট কমার বদলে বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন চলমান প্রকল্পে শেষ পর্যায়ে নতুন উপাদান যুক্ত হলে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়তে পারে।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, উড়ালসড়কে চারটি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হচ্ছে। বাস্তবসম্মত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে একসঙ্গে যুক্ত হলে উত্তরাঞ্চলের যানবাহন কেন্দ্রীয় ঢাকার যানজট এড়িয়ে সরাসরি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বা পশ্চিমাঞ্চলের চট্টগ্রাম কিংবা খুলনায় যেতে পারবে।
প্রকল্পের ডিসেম্বর মাসের অগ্রগতির নথি অনুযায়ী, সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। কিন্তু মগবাজার রেলক্রসিং থেকে কুতুবখালী অংশের অগ্রগতি মাত্র ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এই অংশে ৫৩৮টি পাইল, ৮১টি পাইল ক্যাপ, ৬৮টি কলাম, ৩৪টি ক্রস বিম ও ২৯৪টি আই-গার্ডার নির্মাণ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি ২৩২টি আই-গার্ডার ও ১৫টি ব্রিজ ডেক স্থাপন করা হয়েছে।
এমএইচএন/এমএন