উপকূল সুরক্ষায় নির্বাচনী ইশতেহারে ২১ দাবি চান ভুক্তভোগীরা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে উপকূল সুরক্ষায় ২১টি দাবি অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন এই অঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষ।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলের মানুষের সংকট নিরসনের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্তির নাগরিক সংলাপ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মিডিয়া স্ট্রিম। সংলাপে মূল প্রবন্ধের মাধ্যমে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন লিডার্সের পরিচালক (কর্মসূচি) এবিএম জাকারিয়া।
উত্থাপিত ২১টি দাবি হলো–
১. উপকূলীয় এলাকার টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নের জন্য পৃথক দপ্তরসহ একটি ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা।
২. পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা এবং ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও বিপণনের উদ্যোগ নেওয়া।
৩. সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলকে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণা করা।
৪. উপকূল রক্ষায় বিশেষ মহাপরিকল্পনা ও জাতীয় বাজেটে আলাদা বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
৫. খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো।
৬. ক্লাস্টারভিত্তিক বসবাস পরিকল্পনা ও জোয়ার-ভাটা নদী ব্যবস্থাপনা (টিআরএম) পদ্ধতি চালু করা।
৭. প্রতিটি পরিবারকে দুর্যোগে সুরক্ষা দিতে ‘একটি বাড়ি, একটি সেন্টার’ কর্মসূচি গ্রহণ করা।
৮. উপকূলীয় সম্পদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
৯. ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও খাল ড্রেজিং করা।
১০. সাইক্লোন শেল্টারগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করা।
১১. স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইসগেট আধুনিকায়ন করা।
১২. উপকূলের মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার পানির টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা।
১৩. সুপেয় পানির জন্য বৃহৎ জলাধার নির্মাণ এবং জলাধারের ইজারা বন্ধ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা।
১৪. ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, প্যারাবন সৃষ্টি এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
১৫. কমিউনিটি ক্লিনিকসহ স্বাস্থ্যসেবার সব স্তরের মান ও জনবল বাড়ানো।
১৬. লবণাক্ততা সৃষ্টিকারী অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ সীমিত ও পরিকল্পিত করা।
১৭. সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য জীবনবিমা, সামাজিক সুরক্ষা ও আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১৮. সকল উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ ) ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (এসআইএ) বাধ্যতামূলক করা।
১৯. দুর্যোগে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ আনার উদ্যোগ নেওয়া।
২০. কৃষি ব্যবস্থাকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তোলা।
২১. দুর্যোগে দ্রুত সাড়াদানের জন্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় তহবিল গঠন করা।
সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন মিডিয়া স্ট্রিমের সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ। অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে উপকূলের মানুষের এসব দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
এমএসআই/বিআরইউ