রিক্রুটিং এজেন্সির ১০ হাজার বর্গফুট অফিস শর্ত সিন্ডিকেট স্বার্থে রক্ষিত

মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্সির অবশ্যই কমপক্ষে তিন বছর ধরে পরিচালিত ন্যূনপক্ষে ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনবিশিষ্ট একটি স্থায়ী অফিসসহ অন্য যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তা সিন্ডিকেট এবং বৃহৎ রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থেই রক্ষিত হবে বলে মনে করছে অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাধারণ সদস্যরা।
আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় বায়রার নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) প্রার্থীদের অংশগ্রহণে একটি সংলাপের আয়োজনে এ অভিমত ব্যক্ত করেন বায়রার সাধারণ সদস্যরা।
রামরু জানিয়েছে, সংলাপে মূলত তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করা হয়। এগুলো হলো- বায়রাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পরিকল্পনা, নৈতিক নিয়োগ নিশ্চিতকরণে প্রার্থীদের অঙ্গীকার, এবং বাংলাদেশে ও গন্তব্য দেশগুলোতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে ১০ হাজার বর্গফুটের অফিসসহ যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে তা আসলে সিন্ডিকেট এবং বৃহৎ রিক্রুটিং এজেন্সির স্বার্থেই রক্ষিত হবে বলে মনে করেন তারা। মিটিংয়ে লটারির মাধ্যমে প্রধান পদে নির্বাচনের বিষয়টি সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
নির্বাচন প্রার্থী ফখরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ সদস্যরা বায়রার বিভিন্ন কমিটিতে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব ও গুরুত্ব পাচ্ছেন না। বায়রার বিভিন্ন কমিটি অন্তর্ভুক্তিতে সাধারণ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা অঙ্গীকার করেন নির্বাচনে জিততে পারলে বায়রার নিজস্ব আরবিট্রেশন ব্যবস্থাকে সচল করবেন এবং সংগঠনের কর্মীদের কল্যাণে একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করবেন।
দিদারুল হক (নির্বাচন প্রার্থী) দালাল নির্ভরতা বন্ধ করতে সরকার ও বায়রার সমন্বয়ে একটি কার্যকর ডিজিটাল সিস্টেম গড়ে তুলবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি রিয়াজ-উল-ইসলাম (নির্বাচন প্রার্থী) বলেন, বায়রার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো বর্তমানে কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এসব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
রেহানা পারভিন (প্রাক্তন কমিটি প্রতিনিধি) বলেন, আগে কমিটিতে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা যেত জেনারেল সেক্রেটারি এবং প্রেসিডেন্টের প্রাধান্য থাকে। আগামী নির্বাচনে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চান তারা।
সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি শাকিল আকতার চৌধুরী বলেন, বায়রার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য লিখিত নির্বাচনী ইশতেহার থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে আহ্বান জানান নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সির যথাযথ নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সুপারিশ ছিল এদের সংখ্যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কমিয়ে আনা। তা না হয়ে এ বছরে আরও ২৬৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দেওয়া হয়। ফলে রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যবহারে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
সংলাপ পরিচালনা করেন রামরুর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনীম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, রাজনীতি, আমলাতন্ত্র এবং গুটিকতক রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যকার আঁতাত বন্ধ করার বিষয়টি এ বছর নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হওয়া প্রয়োজন।
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন বায়রার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, সংগঠনটির প্রাক্তন কমিটি সদস্য, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি প্রমুখ।
এনআই/জেডএস