জনগণকে বোঝাতে চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে সরকার

নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি ট্রাস্ট বিল্ডিং করতে। আমরা জনগণকে বোঝাতে চাই, একটি স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) আয়োজনে ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দুদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথম দিনে ১০০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, একটি প্রশিক্ষণে মূলত দুটি বিষয় থাকে। একটি ইনফরমেশন, অপরটি ফিলোসফি। ইনফরমেশনের মধ্যে পড়ে নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে, আচরণবিধিতে কী আছে, কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, এসব বিষয়। আর ফিলোসফি হচ্ছে কেন এই দায়িত্ব পালন করতে হবে, আপনাদের কাছে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কী উপকার হবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। এর পেছনে আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি ভূমিকা রেখেছি। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে জনগণের বিশ্বাস ভেঙে পড়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, গণভোটের বিষয়ে এখনো মানুষের মধ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তি কাজ করছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ দিলে কী হবে, ‘না’ দিলে কী হবে, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বড়ো অভাব রয়েছে। এই অভাব দূর করার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই নিতে হবে।
তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে জনগণ কী ভাবছে, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কী, বাইরের পক্ষগুলোর ভূমিকা কী, তাদের আচরণে কী প্রকাশ পাচ্ছে, এসব বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো কারণে যদি এই গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত না হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অনিবার্যভাবে সংকটের মুখে পড়বে।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, জাতীয় মসজিদের ইমামকেও পালিয়ে যেতে হয়েছিল। তিনি জানতেন, তিনি অপরাধ করেছেন। এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায়, রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা ভয়ংকর ও দমনমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, সেই সময় সাংবাদিকতাকেও একটি নির্দিষ্ট ধারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে একদিকে ছিল প্রিয় অভিভাবক, অন্যদিকে সাংবাদিকতার স্বাধীনসত্তা ক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল। দুঃখজনকভাবে, আমরা এখনও সেই প্রিয় অভিভাবকের অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করতে পারিনি। এখনো পুরোনো অভ্যাসের প্রতিফলন দেখা যায়।
এমআর/জেডএস