ক্ষমতাসীন দলের উদ্যোগ ও বিরোধী দলের সহযোগিতার প্রত্যাশা

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য যে শ্রমিক ইশতেহারটি প্রণয়ন করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলসহ সব পক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বক্তারা শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন দলের উদ্যোগ ও বিরোধী দলের সহযোগিতার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬-এ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং স্কপ-এর ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে শ্রমিক ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ‘জাতীয় অংশীজন কনভেনশন’ আয়োজন করা হয়।
অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান কনভেনশনে স্বাগত বক্তব্য দেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন। শ্রমিক ইশতেহারের মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা যেমন এই ইশতেহারের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন, তেমনি যারা বিরোধী দলে থাকবেন তারাও এর বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও চাপ প্রয়োগ করবেন বলে আমরা আশা করি।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল কাদের হাওলাদার বলেন, আমরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চাই। তাই আমাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহমুদ জোবায়ের বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের ইস্যু থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, শ্রমজীবী মানুষ তার অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হলে তাদের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়। শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া কোনো দয়া নয়, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান রেখে তার দল শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবে।
কানাডিয়ান হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফিলিপ বার্নিয়ার আর্কান্ড বলেন, আমার দেশ শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ ডেলিগেশনে ট্রেড অ্যাডভাইজার আবু সাঈদ বেলাল বলেন, শ্রম সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, যাতে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটিকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান শ্রমিকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিশ্ব শ্রমবাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই এবং তাদের দল এটি বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে।
আইটিইউসি এশিয়া-প্যাসিফিকের ওয়ার্কার্স রাইটস ডিরেক্টর এস এম ফাহিমুদ্দিন পাশা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, শ্রমিকের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রমিক ইশতেহার একটি শক্তিশালী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, বর্তমানে শ্রমিক আন্দোলন ক্রমশই স্তিমিত হচ্ছে এবং তাদের দাবি আদায়ের বিষয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা কমে আসছে।
শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, যারা শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন তারা যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হতে পারেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, সব শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় তার দল কাজ করবে এবং ন্যূনতম মজুরি কমিশন ও শ্রম সংস্কারে স্থায়ী কমিশন গঠনের ব্যাপারে তার দল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আক্তার বলেন, সব শ্রমিককে শ্রম আইনে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে তার দল সচেষ্ট থাকবে এবং তাদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে।
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে শ্রমিক ইশতেহারের ভবিষ্যৎ। গত ৫৪ বছরে শ্রমিকের অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা হয়নি।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বিনা জামানতে শ্রমিকের পেনশন স্কিম প্রদান ও দিবাযত্ন কেন্দ্রের বিষয়গুলোর ওপরেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, শ্রমিকদের দাবির সঠিক বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা। সরকারে যারা থাকবেন তাদের এ কথাটির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।
এএসএস/এসএসএইচ