গুলিবিদ্ধ শিশুটির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে : নিনস

মিয়ানমার সীমান্তে সংঘাতের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস) ও হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর এই বিশেষায়িত হাসপাতালটিতে শিশুটির জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফাকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করার পর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। ফলে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির আঘাতে শিশুটির মস্তিষ্কের এক পাশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেই চাপ কমানোর চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে তার মাথার খুলির ডান পাশের অংশ অপারেশন করে খুলে রাখা হয়েছে।
এর আগে হুজাইফার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ মূল্যায়নের জন্য মঙ্গলবার বেলা ১১টায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বোর্ডে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভাস্কুলার সার্জন, আইসিইউ স্পেশালিস্ট ও অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অংশ নেন। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নিনসে স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হুজাইফার ‘গ্লাসগো কোমা স্কেল’ (জিসিএস) স্কোর ১৫-এর মধ্যে মাত্র ৭। অর্থাৎ তার অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শিশুটিকে বর্তমানে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে এবং কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির জন্য হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ রুমে একটি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। জটিল নিউরোসার্জারি ও পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তার চিকিৎসা শুরু করা যায়।
টিআই/বিআরইউ