এলপিজি সংকট মোকাবিলায় তৎপর বিইআরসি, ভোগান্তি কমানোর আশ্বাস

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চলমান সংকট মোকাবিলায় আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা সহজ করতে কাজ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতেও সংস্থাটি তৎপর রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জস ইন দ্য এলপিজি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকটির আয়োজন করে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন এবং এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।
জালাল আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ এলপিজি কিনে নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো ছোট ক্রেতাদের জন্য সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের এলপিজি আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতের হাতে রয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা কমাতে বিইআরসি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, সম্প্রতি ভূরাজনৈতিক কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে অনেক জাহাজ ও কোম্পানি কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে সামনে আরও নিষেধাজ্ঞা আসার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের এলপিজি আমদানির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে বাংলাদেশে ১২ দশমিক ৯ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা ছিল ১২ দশমিক ৮ লাখ টন এবং ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ১ লাখ টনে। তবে ২০২৫ সালে আমদানির পরিমাণ কমে ১৪ দশমিক ৬৫ লাখ টনে নেমেছে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোকে এখন লাইসেন্স নবায়নেই বছরে ১ কোটি টাকার বেশি খরচ করতে হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
ড. ম. তামিম আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকট ও শক্তি রূপান্তরে এলপিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে পরিচালিত এলপিজি শিল্পে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। বাসাবাড়ি, পরিবহন, শিল্প এবং গ্রামীণ অঞ্চলে এলপিজি ব্যবহার করা হয়। তবে এটি সম্পূর্ণরূপে আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় লজিস্টিক দক্ষতা এবং নিয়ন্ত্রক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওএফএ/বিআরইউ