জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে : বিআইপি সভাপতি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানারস (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে পুরো দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
রোববার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে সিক্স সিজনস হোটেলে 'রাজনৈতিক চর্চায় পরিকল্পিত নগরায়ন' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আমাদের জাতীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পনা তৈরি হয়নি। বিভিন্ন শহরের বিচ্ছিন্নভাবে পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। যেমন, ব্রিটিশদের আদলে আমাদের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম-এর মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়িত না হওয়ায় কোনো সুফল আমরা পাইনি। বিভিন্ন কতৃপক্ষ বা দপ্তরের অধীনে অন্যান্য অনেক শহরের পরিকল্পনা প্রণয়ন হলেও, বাংলাদেশে একটিও পরিকল্পিত শহর নেই।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করবে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে আমরা পরিকল্পনাবিদগন সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই। আমরা আশা করবো আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে। আমরা এও আশা করবো, নির্বাচিত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিকল্পনাবিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং নিয়মিত আলোচনা অব্যহত রাখবে।
এই পরিকল্পনাবিদ বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী দফা বা ইশতিহারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকল্পনার কথা বলেছেন। আপনাদের এই আগ্রহকে আমরা আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। আপনাদের এই সব পরিকল্পনা যদি জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনার অংশ হয়, তবেই দেশের সামগ্রিক পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। বিগত দিনে, বিভিন্ন সরকার বিকেন্দ্রীকরণের অঙ্গীকার করলেও স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হয়নি। আশা করি আগামী দিনে বিকেন্দ্রীকরণ কার্যকর হবে।
মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে সামগ্রিক কাঠামো, তার আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা পরিকল্পনা দপ্তর এখনো আমলা নির্ভর। এসব প্রশাসকরা খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। ওনাদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান রেখেই বলছি পরিকল্পনার মতো কারিগরি বিষয়ে, প্রশাসকদের অদূরদর্শিতা, উপযুক্ত কারিগরি দক্ষতার অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় না। কাজেই, উন্নয়ন কতৃপক্ষ বা পরিকল্পনা দপ্তরে আমরা পরিকল্পনাবিদদের অগ্রণী ভূমিকা দেখতে চাই। অন্যথায় পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না।
যেহেতু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে সব প্রকল্প আনুমোদন হয়, প্রকল্পগুলো যেন, দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তাই, জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ থাকতে হবে, বলেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসানে সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান।
এএসএস/জেডএস