মিয়ানমার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার ৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে

মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে তারা বাংলাদেশ বিমানের বিজি৩৯৮ নম্বর ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৬টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছেন, এদের কাউকে দুবাই, মালয়েশিয়া বা সরাসরি ঢাকা থেকে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার সংক্রান্ত ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়ে সট হয়ে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো।
যারা ফিরেছেন, তারা হলেন- লালমনিরহাটের মো. আব্দুল মালেক, হাবিবুর রহমান, ঢাকার রহিম বাদশা, খুলনার এসকে মিনহাজুল হোসেন, নরসিংদী মো. মেহরাজ হাসান, ফরিদপুর রিয়াজ ফকির, গাজীপুর রিপন মিয়া এবং বান্দরবান উলহাসায় মারমা।
ভুক্তভোগী মেহরাজ হাসান জানান, ঢাকার বাসা থেকে প্রথমে দুবাই এবং পরে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজের প্রলোভনে তিনি বিদেশে যান। সেখান থেকে তাকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জোরপূর্বক দেড় বছরের চুক্তিতে (কনট্রাক্ট) সই করতে বাধ্য করা হয়। সেখানে তার কাজ ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে মানুষের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ নম্বর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে তার ওপর চলত অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শাস্তির অংশ হিসেবে তাকে কড়া রোদে মাঠে দৌড়ানো, ২০ লিটার ওজনের পানির পাত্র বহন করা এবং দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হতো।
অন্য দুই ভুক্তভোগী রিয়াজ ফকির ও রহিম বাদশা জানান, তাদের প্রথমে ট্যুরিস্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। এরপর ‘মায়ে সট’ সীমান্ত দিয়ে তাদের মিয়ানমারে পাচার করা হয়। সেখানে তাদের একইভাবে জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা হতো এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
রিপন মিয়া নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, মালয়েশিয়া থেকে উন্নত কাজের আশায় থাইল্যান্ডে আসার পর তাকে মিয়ানমারে আটকে রাখা হয়। তার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক শ্রমের চুক্তিতে বাধ্য করা হয়।
মিনহাজুল হোসেন জানান, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে থাইল্যান্ডে আসার পর মায়ে সট এলাকায় আটকা পড়েন। এক বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং দেশে ফেরার বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীদের প্রত্যেকেরই কাজ ছিল মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। এই টার্গেট পূরণে সামান্য ভুল বা ব্যর্থতা হলেই চলত চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে একইভাবে নিপীড়নের শিকার ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছিলেন।
এনআই/এমজে