প্রার্থী বদলে ‘নাটকীয়তা’ : জনমনে বিভ্রান্তি, পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ

ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৯ আসনে লড়াইটা এখন আর কেবল প্রতীকের নয়, বরং কৌশলের। নির্বাচনের ডামাডোল শুরুর পর বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য যে প্রার্থীদের ঘিরে মাঠ সরগরম ছিল, শেষ পর্যন্ত দলীয় সমীকরণে তাদের কাউকেই দেখা যাচ্ছে না চূড়ান্ত তালিকায়। হঠাৎ পরিচিত মুখদের বদলে আলোচনার বাইরে থাকা নেতাদের প্রার্থী করায় একদিকে যেমন ভোটের অঙ্ক পাল্টে যাচ্ছে, অন্যদিকে স্বতন্ত্র হয়ে লড়া নেতাদের কারণে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এই ‘মনোনয়ন নাটক’ ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদের মনে যেমন বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তেমনি ভোটের ময়দানকে করে তুলেছে অভাবনীয় অনিশ্চিত। এ আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, ১০ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনিত প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া (জাবেদ রাসিন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শাহ ইফতেখার তারিখ এবং এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। জোটের প্রার্থীর জন্য এ আসন ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
হেভিওয়েট প্রার্থী আফরোজা আব্বাস (বিএনপি) ও কবির আহমদের (জামায়াত) সরে দাঁড়ানোয় ঢাকা-৯ আসনে তৈরি হয়েছে নতুন মেরুকরণ। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে পরিচিত মুখদের বদলে নতুনদের মনোনয়ন দেওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে
সরেজমিনে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে শুরুতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় বেশ এগিয়ে থাকলেও বর্তমানে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। জোটবদ্ধ নির্বাচনের খাতিরে দলীয় সিদ্ধান্তে জামায়াতের প্রার্থীকে মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। এর পরিবর্তে জোটের পক্ষে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী জাবেদ মিয়াকে চূড়ান্ত করা হলেও তৃণমূলের সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি এখনো অপরিচিত এক মুখ।
অন্যদিকে, বিএনপি থেকেও শুরুতে হাবিবুর রশিদ হাবিবের নাম এ আসনে আলোচনায় ছিল না। তবে দলীয় প্রতীক পাওয়ার পর তিনি দ্রুত গণসংযোগ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। এর বাইরেও বড় এক চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন চিকিৎসক ও আলোচিত মুখ ডা. তাসনিম জারা। শুরুতে এনসিপি থেকে তার মনোনয়নের জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও, দল জোটবদ্ধ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
প্রচারণায় থেকেও দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ালেন যারা
রাজধানীর খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। এই আসন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। পুরো নির্বাচনী এলাকাজুড়ে ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে তার ব্যাপক প্রচারণা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সমীকরণে পরিবর্তন আসে।
বিএনপি মনোনীত হাবিবুর রশিদ হাবিব, ১০-দলীয় জোটের জাবেদ মিয়া এবং আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে
গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় এই আসন থেকে মনোনয়ন পান ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব। দলীয় এই সিদ্ধান্তে সংহতি প্রকাশ করে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আফরোজা আব্বাস। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে নিয়ে তিনি এখন দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন, যা এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপির পাশাপাশি ঢাকা-৯ আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমীকরণেও। এই আসন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ চষে বেড়িয়েছিলেন দলটির শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি খিলগাঁও-সবুজবাগ এলাকার ঘরে ঘরে প্রচারণা চালিয়েছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে জামায়াতের একটি বিশেষায়িত নারী ইউনিট তার পক্ষে কাজ করেছে। এ ছাড়া, এলাকার উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে তিনি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে ভোটারদের নজরে এসেছিলেন।
মুগদা-মানিকনগর ও মান্ডা এলাকার বেহাল সড়ক এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে যারা সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ দিতে পারবেন, তাদের দিকেই ঝুঁকছেন ভোটাররা
তবে, নির্বাচনী জোটের স্বার্থে গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। একই পথ বেছে নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে থাকা খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. ফয়েজ বখশ সরকার। তিনিও দলীয় ও জোটগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। হেভিওয়েট এই দুই নেতার প্রস্থান ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন এক মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।
বেহাল সড়ক ও নালা-নর্দমার ভোগান্তি : স্লোগান নয়, ‘রোডম্যাপ’ চান ভোটাররা
সরেজমিনে দেখা গেছে, মুগদা-মানিকনগর ও মান্ডা এলাকার অধিকাংশ রাস্তা এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মুগদা-মানিকনগরের অভ্যন্তরীণ প্রধান সংযোগ সড়ক (ওয়াসা রোড) দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের নামে বন্ধ রাখা হয়েছে। একই অবস্থা মুগদা হাসপাতালের সামনের রাস্তারও। সংস্কার কাজের ধীরগতিতে এক বছরের বেশি সময় ধরে এটি চলাচলের অনুপযোগী। এমনকি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে বড় গর্ত বা নালা খনন করে রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এলে এই এলাকার উন্নয়নে কী করতে চায়, কোন সংস্কারগুলো বেশি জরুরি কিংবা সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা কী— এসব বিষয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক দলগুলো এখনো এই এলাকায় বড় কোনো জনসমাবেশ করেনি। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে কোন দল কী ধরণের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) দেবে, তার ওপরই প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
মান্ডা এলাকার রিকশাচালক শিমুল মিয়া বলেন, ‘ভোট আসে, ভোট যায়; কিন্তু আমাদের এলাকার রাস্তার অবস্থা একই থাকে। রাস্তাঘাট বন্ধ এবং খানাখন্দে ভরা থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও এখন ভয় লাগে। প্রার্থীরা ভোটের সময় ভোট চায়, মাইকিং করে; কিন্তু জয়ী হওয়ার পর আমাদের কষ্টের কথা ভুলে যায়। যে আমাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবে, আমরা তাকেই ভোট দেব।’
বিএনপি প্রার্থী হাবিব নিজেকে ‘মাটির সন্তান’ দাবি করে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার দাবি করলেও অন্য প্রার্থীরা পরিবর্তন ও তরুণ নেতৃত্বের ওপর ভরসা রাখছেন
সবুজবাগের গৃহিণী সালমা ইসলাম বলেন, ‘মুগদা হাসপাতালের সামনের রাস্তা বন্ধ থাকায় শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এলাকায় নিরাপত্তা, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এখন সময়ের দাবি। নারী ভোটারদের সমস্যা নিয়ে কেউ আলাদা করে কথা বলে না। আমরা এমন নেতা চাই, যিনি নারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। শুধু স্লোগান না দিয়ে যে প্রার্থী বাস্তব কাজের রূপরেখা দেবেন, আমরা তাকেই বেছে নেব।’
এদিকে দীর্ঘ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এবার প্রায় সব ভোটারই কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে, ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ ও সংশয় লক্ষ্য করা গেছে। বারবার প্রার্থী বদল হওয়ায় অনেক ভোটার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পছন্দের প্রার্থীকে না পেয়ে কেউ কেউ ভিন্ন জোটের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দ্বিধাহীনভাবে নিজ নিজ জোটের সমর্থিত প্রার্থীকেই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
মুগদার মানিকনগর পুকুরপাড়ের ফল বিক্রেতা মোসলেম উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এতদিন যাকে ভোট দেব বলে ভেবেছিলাম, শুনছি তিনি নাকি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাকে ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করেই ভোট দিতে চেয়েছিলাম। এখন তিনি যেহেতু সরে গেছেন, তাই কাকে ভোট দেব, সেটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।’
খিলগাঁও এলাকার স্কুল শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ বছর পর এবার ভোটের আমেজ দেখতে পাচ্ছি। তবে, প্রার্থী মনোনয়নে দলগুলো বেশি দেরি করে ফেলেছে। শুরুতে যারা নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন, শেষ মুহূর্তে তাদের আর মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বদল হওয়ায় ভোটের সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে।’
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘অস্থানীয়’ আখ্যা দিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হাবিব
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি এই মাটিরই সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের সঙ্গে আমার পথচলা; তাদের সুখ-দুঃখ ও সুবিধা-অসুবিধাগুলো আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং অনুভব করেছি। এই এলাকার প্রতিটি অলিগলি আমার চেনা। মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম আর উন্নয়নের যে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, তা আমি উপলব্ধি করি। এখানকার মানুষ আমার কাছে কেবল ভোটার নন, তারা আমার পরম আপনজন। তাই তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে আমি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব বলে আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, এলাকার সন্তান হিসেবে আমি মানুষের সমস্যাগুলো হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ প্রতিটি মৌলিক সমস্যা সমাধানে আমি বাস্তবমুখি ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এই আসনের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নিরাপদ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিষয়ে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, আমার বিপরীতে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের কেউ এই আসনের স্থানীয় নন। ফলে এখানকার মানুষের প্রকৃত সংকট, চাহিদা ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তাদের পক্ষে সেভাবে উপলব্ধি করা কঠিন। তাই আমি আমার বিজয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। আশা করছি, ভোটের ফলাফলে বড় ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত হবে।
তরুণদের উদ্দীপনা আর নতুনত্বের আকাঙ্ক্ষাই আমাকে জেতাবে : জাবেদ
১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া (জাবেদ রাসিন) ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আমি আমার নির্বাচনী এলাকার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়েছি। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা জানার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। রাজধানীর আসন হওয়া সত্ত্বেও অনেক ওয়ার্ড আধুনিক নগরায়ণের সুবিধা থেকে অনেক পিছিয়ে। এখনো অনেক জায়গায় মাটির রাস্তা রয়ে গেছে, কোনো কোনো এলাকায় মানুষকে পার হতে হয় সাঁকো দিয়ে। ভালো স্বাস্থ্যসেবা কিংবা মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও অভাব রয়েছে অনেক জায়গায়। এমন পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।”
নিজের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মুগদা হাসপাতালকে দালাল ও দুষ্টচক্রের হাত থেকে মুক্ত করে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এ ছাড়া, জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স সেবা’ চালু করতে চাই। দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসন এবং বেহাল সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেব। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করা, শিশুদের জন্য উন্নত স্কুল ও খেলার মাঠ এবং শিক্ষিত বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ নেব।”
নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ও জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জাবেদ মিয়া বলেন, “এখন পর্যন্ত আমি নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো বাধার সম্মুখীন হইনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, তারা পরিবর্তন চান। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা আগামীর বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্ব দেখতে আগ্রহী। অনেকেই বলছেন— সব দলকেই তো দেখা হলো, এবার আমরা নতুন কাউকে চাই। তরুণদের এই উদ্দীপনা এবং সাধারণ মানুষের নতুনত্বের আকাঙ্ক্ষাই আমাকে বিজয়ের দিকে এগিয়ে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সাড়া মেলেনি তাসনিম জারার
ঢাকা-৯ আসনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ঢাকা পোস্ট। তবে বারবার চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদক প্রথমে তাকে মুঠোফোনে কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। পরবর্তী সময়ে সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলার অনুরোধ জানালে তিনি লিখিত প্রশ্ন পাঠাতে বলেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপে বারবার ফলোআপ করেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘এলাকার সন্তান’ পরিচয়ে জয়ের আশাবাদী শাহ ইফতেখার
অপরদিকে দীর্ঘ নাটকীয়তার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ঢাকা-৯ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাহ ইফতেখার তারিখ।
নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। এই এলাকার সন্তান হওয়ায় এখানকার প্রায় সবাই পরিচিত। বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী এবং সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ আমার পাশে রয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি ভোটের ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।
এমজে

