চট্টগ্রাম বন্দরের আরও ১২ কর্মচারীকে বদলি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের হাতে ইজারার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করা আরও ১২ কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৬ জনকে বদলি করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক আদেশে তাদের বদলি করেন।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের দমন-পীড়ন, বদলি করে আন্দোলন দমানো যাবে না। আগামীকাল কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, অন্তত ১২ জনকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। প্রথম দফায় বদলি করা হয়েছিল সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ চারজনকে। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ১৬ জনকে বদলি করা হয়েছে।
এক বদলির আদেশে ৭ জনের নাম রয়েছে। তারা হলেন- পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি ও প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া। এর মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোয় ও তিনজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে বদলি করা হয়েছে।
আরেকটি আদেশে যে পাঁচজনের নাম রয়েছে তারা হলেন- উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী ও আমিনুর রসুল বুলবুল এবং খালাসি মো. রাব্বানী। তাদের পানগাঁও আইসিটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বদলি বা পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ৩১ জানুয়ারি অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবীর (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (১ম শ্রেণি-নৌ বিভাগ) উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ), এসএস খালাসি মো. ফরিদুর রহমানকে (প্রকৌশল বিভাগ) বদলি করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুটি পৃথক দাপ্তরিক আদেশে ১২ জনকে বদলি করা হয়েছে। জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজের প্রয়োজনে তাদের বদলি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের চট্টগ্রাম থেকে অন্যত্র বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ করছে। এতে আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে। আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আন্দোলন চলমান থাকবে। বদলি করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’
আরএমএন/এমজে