এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে কালো পতাকা মিছিল, মঙ্গলবার অবরোধ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুড়িং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। একইসঙ্গে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বন্দর অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আগ্রাবাদ বাদামতলের আক্তারুজ্জামান সেন্টার চত্বরে কালো পতাকা মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন এবং সঞ্চালনা করেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা এস কে বারী খোকন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সিমেন্স হোস্টেল ও ইসহাক ডিপো পয়েন্টে বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
নেতারা বলেন, দীর্ঘ সাত মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে বন্দরের স্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এ বিষয়ে বারবার সুস্পষ্ট যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তারা অভিযোগ করেন, সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে সরকার দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলন নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে ১৬ জন শ্রমিককে অন্যত্র বদলি করেছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, বদলি করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। তারা সংঘাতের পথ পরিহার করে অবিলম্বে বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে টানা তিন দিন সফলভাবে বন্দরে কর্মবিরতি পালন করায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সব শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানানো হয়। সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এমআর/জেডএস