তদবির ঠেকাতেই কি দূতদের নির্বাচনের আগে-পরে দেশে ফিরতে মানা?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিদেশে থাকা বাংলাদেশের মিশন প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সব রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও স্থায়ী প্রতিনিধিদের নির্বাচনের আগে ও পরে আবশ্যিকভাবে মিশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদেশি বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানানোর আবশ্যকতা থাকলেও, কূটনীতির অন্দরমহলে আলোচনা চলছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে। কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মূলত নির্বাচনের পরের ‘বদলি তদবির’ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ঢাকায় ফেরার জন্য বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও স্থায়ী প্রতিনিধি ছুটি চেয়েছেন। ঢাকায় ফিরতে চাওয়াদের মধ্যে কেউ কেউ ছুটির জন্য আবেদন করেছেন, আবার কেউ কেউ টেলিফোনেও অনুরোধ করেছেন।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, নির্বাচনের মতো গুরত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীলদের কর্মস্থলে থাকাটা জরুরি। বিশেষ করে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিদেশি বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাতে হতে পারে, যার গুরুদায়িত্ব মিশন প্রধানের ওপর বর্তায়।
তবে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন। তারা বলছেন, মূলত তদবির ঠেকাতেই মিশন প্রধানদের কর্মস্থল না ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেননা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারাই সরকার গঠন করুক, বিদেশে থাকা অনেক গুরত্বপূর্ণ মিশনে দূত পরিবর্তন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারদের কেউ কেউ হয়তো মনে করছেন, সশরীরে ঢাকায় থাকতে পারলে নিজেদের পদ টিকিয়ে রাখা বা পছন্দের জায়গায় যাওয়ার তদবির করা সহজ হবে।
গত ১৯ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, অনারারি কনস্যুলেট ব্যতীত সকল মিশনে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের পরিপ্রেক্ষিতে সব রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং স্থায়ী প্রতিনিধিদের নির্বাচন চলাকালীন ও নির্বাচনের পরপরই মিশন ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র ধারণা করছে, নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে দূত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন, দিল্লি, লন্ডনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে দায়িত্বে থাকাদের বিগত সময়ের অবস্থান কিংবা মতাদর্শ আমলে নিতে পারে নতুন সরকার। তাই ভালো মিশনে (ক ও খ শ্রেণিভুক্ত) দায়িত্বে থাকাদের চেষ্টা থাকবে অবস্থান পাকাপোক্ত করার, আর তুলনামূলক কম গুরত্বপূর্ণ মিশনে (গ ও ঘ শ্রেণিভুক্ত) দায়িত্বপ্রাপ্তরা ভালো মিশনে যেতে চেষ্টা করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব তো রাষ্ট্রদূত বা স্থায়ী প্রতিনিধিকেই নিতে হবে। সেজন্য তাদের বলা হয়েছে, যেন তারা নির্বাচনের আগে ও পরে কর্মস্থলে অবস্থান করেন।’
এনআই/বিআরইউ
