চাঁদাবাজদের বৈধতা দিচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী— জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ

চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিউল আলম একই আসনের তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিএনপির শীর্ষ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নারীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনী সভায় দেওয়া বক্তব্যে আমির খসরু প্রকাশ্যে চাঁদাবাজদের বৈধতা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে পেশীশক্তি ব্যবহারের জন্য তাদের উৎসাহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত নির্বাচনীয় ইশতিহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি পতেঙ্গা-ইপিজেড এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
শফিউল আলম বলেন, সম্প্রতি একটি দোয়া মাহফিল ও নির্বাচনীয় জনসভায় আমির খসরু দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘তোমরা যারা এতদিন চাঁদাবাজি করেছো, আজকের দিন পর্যন্ত ঠিক আছে। ভবিষ্যতে আর করবে না।’
শফিউল আলমের দাবি, ‘এ বক্তব্যের মাধ্যমে আমির খসরু স্বীকার করেছেন তার দলে চাঁদাবাজ রয়েছে। এতদিন যারা চাঁদাবাজি করেছে তাদেরকে বৈধতা দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘একজন শীর্ষ নেতা এভাবে হেসে হেসে চাঁদাবাজিকে সমর্থন করতে পারেন, এটা খুবই উদ্বেগজনক।’
চাাঁদাবজির প্রসঙ্গে জামায়াত প্রার্থী বলেন, আমির খসরু আরও বলেছেন, ‘সাতশ থেকে আটশ চাঁদাবাজ যদি না থাকে, তার কিছু যায় আসে না।’ শফিউল আলম বলেন, ‘এই সংখ্যা আমরা জানতাম না। উনি বলার কারণে আমরা জানতে পেরেছি। তার এই বক্তব্য আমাদের কাছে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু তিনি আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, তিনি এসব চাঁদাবাজদেরকে জায়েজ করে আগামী নির্বাচনে প্রভাবিত ও বিশৃঙ্খলা করার জন্য ভিন্ন কিছু চিন্তা করছেন। অনতিবিলম্বে বিষয়টি নজরে আনতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।’
জামায়াত প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, ‘একটি নির্বাচনীয় বক্তব্যে আমির খসরু দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘বোরকা পড়া মহিলারা যদি ঘরে ঘরে ভোট চাইতে যায়, তোমরা তাদেরকে বেঁধে ফেলবে। পুলিশকে ফোন করবে, পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে।’
শফিউল আলম বলেন, ‘ওনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে নারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যারা বোরকা বা হিজাব পরে, যারা পরে না তারাও তাদের সম্মান করে। কিন্তু তিনি ইসলামি অনুশাসন পর্দাকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।’
ইশতিহারে পতেঙ্গা-ইপিজেড এলাকায় ১ হাজার শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম চালু, সড়ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, পতেঙ্গা ও আউটার রিং রোড এলাকায় বিশ্বমানের একটি পর্যটন স্পট গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এ ছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দুটি স্থানে কবরস্থানের ব্যবস্থা, পতেঙ্গা-ইপিজেডের দীর্ঘদিনের ওয়াসার পানির সমস্যা সমাধান এবং সরকারি ভূমি অধিগ্রহণের পর সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের কথা সহ মোট ১২টি ইশতিহারে উল্লেখ করা হয়।
ইশতিহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইনুল করিম মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী ও মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসাইন।
এমআর/এমএসএ