বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে আইপিডি’র পরামর্শ

বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে সুষম- ন্যায্যতাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে হবে বলে উল্লেখ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভার্চুয়ালি আয়োজিত আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে 'গণমানুষের ইশতেহার' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে আইপিডির পক্ষ থেকে ইশতেহার পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। সুষম ও ন্যায্যতাভিত্তিক উন্নয়ন, বৈষম্যহীন আঞ্চলিক উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা, টেকসই পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়া উচিত আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন এর বৃত্ত থেকে বেরিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। করতে হবে সমগ্র দেশের স্থানিক ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা। গ্রামীণ এলাকায় মানসম্মত নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন এর জন্য ভূমি ও অর্থের সংস্থান করবার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করতে হবে।
আইপিডির গণমানুষের ইশতেহারের প্রধান লক্ষ্যসমূহ হিসেবে বলা হয় - একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার বাস্তবে কার্যকর হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। ন্যায্য উন্নয়নের মাধ্যমে সকল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগের স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার। প্রান্তিক, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা।গণতন্ত্র, নাগরিক অংশগ্রহণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করা।
আইপিডির পক্ষ থেকে ইশতেহারে আরও বলা হয়, সব মেগা ও বিশেষ প্রকল্পের বাধ্যতামূলক পরিকল্পনা, পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। নদী, বন, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ থাকবে অগ্রাধিকারে। দখল-দূষণে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বহুমাধ্যমভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মেট্রোরেল, মনোরেল, লাইট র্যাপিড ট্রানজিট (এলআরটি), কমিউটার ট্রেন এর পাশাপাশি বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) , উন্নত বাস-মিনিবাস সার্ভিস এর উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। জলপথ ও রেলপথ ব্যবহারের গুরুত্ব বাড়াতে হবে।পরিকল্পিত শিল্প অঞ্চল ও ইকোনমিক জোন গড়ে তুলতে হবে। শিল্পাঞ্চলে থাকবে শ্রমিকবান্ধব আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা। হাওর, চর, পাহাড়, উপকূল ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য আলাদা পরিকল্পনা। স্থানীয় সরকারকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন। পরিকল্পনা আদালত গঠন ও পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।
আইপিডির ইশতেহারে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ প্রদান। খাদ্য মজুত ও বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা। সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা। ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ। বিনামূল্যে ও মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। শিক্ষায় বিভিন্ন অঞ্চল ও আয়শ্রেণীর বৈষম্য দূরীকরণ। গবেষণা, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন। খোলা জায়গা, পার্ক, খেলার মাঠ ও জলাধার সংরক্ষণ ও নির্মাণ। কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, আইপিডি উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর শিক্ষক ও পরিবেশবিদ কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা, আইপিডি গবেষণা সহযোগী জিনিয়াস জান্নাত প্রমুখ।
এএসএস/এসএমডব্লিউ