ঢাকায় ৩৭ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, মোতায়েন থাকবে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য

ঢাকা মহানগরীতে ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বডি ক্যামেরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, নানা কারণে এবাবের নির্বাচন আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেই কালিমামুক্ত হতে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেই ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ধারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে আমরা ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছি। নাগরিকদের কাছে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
রাজধানীতে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এবছর ঢাকা মহানগর এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোটার সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে ভোট কেন্দ্রগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৬১৪টি ভোট কেন্দ্রে চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া আমরা আরও ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে চিহ্নিত করেছি। এই ৩৭টি কেন্দ্র সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি জানার জন্য একজনের কাছে থাকবে বডি ওন ক্যামেরা।
এছাড়া একাধিক ভোট কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকবে ১৮০টি স্টাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম। এছাড়া টাকা মহানগরের আটটি বিভাগে আটটি কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম। সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা এসব ফোর্স বেছে বেছে মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে সবাই সম্মিলিত অবদান রাখি।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) সরওয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম নজরুল ইসলাম।
এমএসি/এসএম