বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর ভোটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি)।
সংস্থটির মতে, এই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জোটে ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ ভোট দেবে এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোটে ৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দেবে। তবে, আসন বিবেচনায় বিএনপি জোট ১০১টি আসন ও জামায়াত সমর্থিত জোট ১০৫টি আসনে নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হবে।
প্রজেকশন বিডি ও জাগরণ ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৬দিনে এই জরিপ করেছে আইআইএলডি। এটি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইআইএলডির দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত জরিপ৷ এর আগে গত ১২ জানুয়ারি প্রথম জরিপের ফল প্রকাশ করেছিলো আইআইএলডি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টনের ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ : প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। জরিপের ফলাফল তুলে ধরে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন পরিসংখ্যানগতভাবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথা বলেন।
জরিপে ৩০০টি আসনের প্রত্যেকটি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি আসন থেকে থেকে সর্বনিম্ম ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ জনের মতামত নেয়া হয়েছে। মোট ৬৩ হাজার ৬১৫ জনের মতামত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৭ দমমিক ৫৯ শতাংশ এবং ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ নারী ভোটার ছিলো। এছাড়া, বয়স, শিক্ষা, ধর্ম ও বিভাগীয় পর্যায়ে আলাদা আলাদা জরিপ করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন সিলেক্ট করতে লটারির মাধ্যমে ভোটার খুঁজে জরিপে অংশগ্রহণ করানো হয়েছে।
আইআইএলডির জরিপে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দেবে। আর ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট না দেয়ার পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া ২ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত জানায়নি।
মতামতে নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে ভোটাররা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব চায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে, এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্যমের দাম কমিয়ে আনতে ৬৭ শতাংশ ভোটার মতামত দিয়েছেন। এর বাইরে আইনের সুশাসন ফেরানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান, চাকরির নিশ্চয়তা ও সংস্কারসহ বেশ কিছু বিষয়ে ভোটাররা অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়ার প্রতি জোর দিয়েছেন বেশিরভাগ ভোটার। প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনায় কাকে ভোট দেবেন সেদিকে জোর দিয়েছেন ৭১ শতাংশ ভোটার। আর দলের সিদ্ধান্তে মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পক্ষে ৪৭ শতাংশ ভোটার, দলের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় ভোট দিতে চান ৩৬ শতাংশ মানুষ। এছাড়, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক স্থায়ীত্ব ও জুলাই চেতনাসহ বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা নিয়ে ভোট দিতে চান ভোটাররা।
জরিপে উঠে এসেছে, নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জোটে ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে চান এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোটে ৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ ভোট দেবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টিতে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৩ দশমিক ৮০ মানুষ ভোট দিতে চান। আর ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিএনপির পূর্ব রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকায় দলটিতে ভোট দিতে চান ভোটাররা এবং জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে সৎ ও কম দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় ভোটাররা ভোট দিতে চান।
শহর অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ বিএনপি সমর্থিত জোটে ভোট দিতে চান এবং জামায়াতে ইসলামীকে ৪২ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে চান। আর ৬ শতাংশ মানুষ ভোট দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে গ্রাম অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ৪৩ শতাংশ বিএনপি সমর্থিত জোটে ভোট দিতে চান এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত জোটে ভোট দিতে চান ৪৫ শতাংশ মানুষ। এখানেও ৬ শতাংশ মানুষ সিদ্ধান্ত জানায়নি। এছাড়া, ধর্ম, বয়স, শিক্ষা ও পেশাজীবদের ওপর আলাদাভাবে কোন দলে কত শতাংশ ভোট যেতে পারে- তার ওপর জরিপ চালিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে আসন বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোটে ১০৫টি এবং বিএনপির সমর্থিত জোটে ১০১টির নিশ্চিতভাবে সম্ভবনা রয়েছে বলে উঠে এসেছে জরিপে। এছাড়া, ৭৫টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লাইয়ের আভাস দেয়া হয়েছে। আর ১৯টি আসনে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল থেকে বিজয়ী হতে পারে।
জরিপে গণভোটের বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। গণভোট সম্পর্কে ২৫ শতাংশ শতাংশ মানুষ জানে না। তাদের বাদ দিয়ে গণভোটের জরিপের ফল নির্ণয় করা হয়েছে। এদের মধ্যে গণভোটে ৮৯ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যা’ ভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছেন এবং ৯ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ ‘না’ ভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আর ১ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোটার গণভোট নিয়ে কোন মতামত জানায়নি।
এমএমএইচ/এমএসএ