দুর্নীতিগ্রস্ত কোম্পানির সঙ্গে কেন বন্দর চুক্তি, প্রশ্ন টিআইবির

তড়িঘড়ি করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেন ডেনমার্কের একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ কোম্পানির সঙ্গে বন্দর চুক্তি করতে হলো, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের চর্চা সুশাসনের জন্য সহায়ক নয় এবং এর ফলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বড় ধরনের দায়ভার বা ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘সিপিআই ২০২৫’ (দুর্নীতির ধারণা সূচক) প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই চুক্তি তো নির্বাচিত সরকারের সময়েও করা যেত। কেন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এটি করতে হলো? এর বোঝা তো জনগণ ও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বইতে হবে। তাদের সঙ্গে কি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে?’
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে যে ঝুঁকির সৃষ্টি হলো, তা পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা হবে কি না; সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি উন্মুক্ত প্রতিবেদন দেওয়া উচিত ছিল। এটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত নয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করে।
চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ডেনমার্কের সঙ্গে আমাদের বন্দর নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, সেই ডেনমার্কও কিন্তু দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে শতভাগ সফল নয়। তারা ৮৯ স্কোর করেছে। অর্থাৎ সেখানেও দুর্নীতি আছে।’
এর দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কোম্পানিটিকে সম্প্রতি ৪৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের এই শাস্তি পেতে হয়েছে। ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে যেন দুর্নীতির চর্চা করলে ওই কোম্পানিকে আমরা ধরতে পারি। এই শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদেরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পর্ষদের পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, বহির্বিভাগ ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। ওই অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, এই চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জন্য একটি বড় অবদান। এর মাধ্যমে মোংলা বন্দরেও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।
এমএমএইচ/বিআরইউ