পুলিশ সুপার জাহিদুলকে বরখাস্তের দাবি জামায়াতের

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটকের ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত নাটক হিসেবে উল্লেখ করে এই ঘটনায় নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলামের বরখাস্তের দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মগবাজারস্থ দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সংঘটিত ঘটনা ও এ নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখানো হয়। এটি উপস্থাপন করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফ উদ্দিন খালেদ।
তিনি বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ঘটনায় মিডিয়া ট্রায়ালের আয়োজন করেন নীলফামারীর এসপি শেখ জাহিদুল ইসলাম। তিনি ভারতে পলাতক সাবেক ডিবি প্রধান মনিরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী। তারেক রহমানের খালাতো ভাই বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনের জনসভায় দেখা গেছে এই এসপিকে।
সাইফ উদ্দিন খালেদ বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চার দিন আগে নীলফামারীর এসপি জাহিদু ইসলামসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আগেই বলেছিলেন, কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের দেওয়া খাবার পুলিশ খেতে পারবে না।
বিমানবন্দরের ক্যামেরা ও স্ক্যানের ভিডিওর এক্সেস কার কাছে সেই প্রশ্ন তুলে সাইফ উদ্দিন খালেদ বলেন, কিছু গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা এই প্রতিবেদন টার্গেটেড বুস্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার ৪৫ মিনিটের মধ্যে মিডিয়া ট্রায়ালের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১ ঘণ্টার মধ্যে একযোগে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইন্টারনাল ফুটেজ ফাঁস করা হয়েছে। সবকিছুই ছিল পরিকল্পিত।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনা একটি নাটক। এই নাটকের মূল হোতা নীলফামারীর এসপি শেখ জাহিদুল ইসলামকে দ্রুত বরখাস্ত করতে হবে। নইলে আগামীকাল নির্বাচনে জয়গণের রায় যাতে প্রতিফলিত না হয় তিনি সেই ভূমিকা রাখবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু লোক জামায়াতকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে। এর আগে, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সঙ্গে বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা জড়িত ছিল। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র জড়িত।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচনকে বানচাল করতে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। নারীরা যাতে কেন্দ্রে যেতে না পারেন, সেজন্য বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একটি দলের নেতা নারীদের বোরকা খুলে কেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলেছেন। আক্রমণ, হামলা করা হচ্ছে। জামায়াত মনে করে, একটা দল ও প্রশাসনের একটি অংশ যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে ছিল, সবাই এক হয়ে এসব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে।
যারা এসব ঘটনায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
জেইউ/এএমকে