‘আজ ঈদের মতো লাগছে’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ অনুষ্ঠানে। নেতাকর্মীদের অবস্থান সংসদের সামনে। নির্বাচনের পর শপথ অনুষ্ঠানকে ঈদের উৎসব আমেজ বলে জানিয়েছেন আগত নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব পাশের ৬ নম্বর গেট দিয়ে সংসদে প্রবেশ করেন নবনির্বাচিত এমপিরা। এমপিদের সঙ্গে আসা নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছিল যেন উৎসবের আমেজ।
চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া এসেছেন হেলাল আহমেদ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১৭ বছর পর মানুষ ভোট দিতে পেরেছে। সেই বিজয়ের পর আজ অনেক এমপিরা সংসদের শপথ নেবেন। সেটিকে উপভোগ করার জন্য, দেখার জন্য নেতাকর্মীরা সংসদের সামনে এসেছে। আজ মনে হচ্ছে ঈদের মতো আনন্দ বিরাজ করছে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা জামায়াতের নেতা সেলিম আহমেদ বলেন, আমি উত্তরাতে কাজ করি। আমাদের কুষ্টিয়া-২ আব্দুল গফুর এমপির সঙ্গে দেখা করার জন্য এখানে দাঁড়িয়ে আছি।
নবনির্বাচিত এমপিদের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একটা ফ্যাসিস্ট বিদায়ের নতুন সরকারের সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করছেন। আজকে তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, সবাই একটা শান্তিপূর্ণভাবে সংহতি নিয়ে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়ে দেশের কাজ করবে। আমরা চাই যে, এদেশে নতুন করে যেন আর কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম না হয়। আর ছাত্রদের যেন নতুনভাবে আর আন্দোলনে না যেতে হয়। ছাত্ররা যেন পড়ার টেবিলে যায়। তারা যেন আবার আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য রেডি হয়। এটা আমাদের আকাঙ্ক্ষা।
এর আগে সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের গেটে নবনির্বাচিত এমপিদের গাড়ি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সকাল সাড়ে ১০টার পর সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রথম ধাপে শপথ অনুষ্ঠান হয়। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির শপথই আগে পড়ানো হয়।
এদিকে শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সংসদ ও তার চারপাশের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা হচ্ছে।
টানা তিনটি সংসদ অর্থাৎ ১৫ বছর পর বিএনপির নেতারা সংসদ ভবনের প্রবেশ করছেন। ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের দুটি নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও দুপুরে কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বয়কট করে বিএনপি।
জেইউ/এমএসআই