চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৪ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অধিকাংশ স্ক্যানিং মেশিন দীর্ঘদিন অচল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্রুত সেগুলো সচলের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কীভাবে দিনের পর দিন অচল থাকে? এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পণ্যজট ও ধীরগতির সরবরাহের অন্যতম কারণ এসব স্ক্যানিং মেশিনের অচলাবস্থা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, শীর্ষ ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তার প্রথম সফর। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস হাউস, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিমানবন্দর ও সিইপিজেডসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো অবস্থিত।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের প্রতিনিধিরাসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতারা আশ্বাস দেন যে, কোনো কারণেই যেন এক ঘণ্টার জন্যও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যে তাঁরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি অনুসরণ করে বন্দর পরিচালনার বিকল্প নেই। বাজারে পণ্যমূল্য, বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পরিচালনা ও সেবার ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।
বন্দর পরিচালনা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, নৌপরিবহন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি নিজেই বিষয়গুলো তদারকি করবেন।
বৈঠকে অংশীজনদের অভিযোগ শোনার পর অর্থমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলোর সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেছি। শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. শফিউল্লাহ, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
এমএন