বিজ্ঞাপন

এমপি আসবেন তাই ২৩ রোগী ভর্তি হলেন হাসপাতালে, এমপি চলে গেলে তারাও চলে যান

এমপি আসবেন তাই ২৩ রোগী ভর্তি হলেন হাসপাতালে, এমপি চলে গেলে তারাও চলে যান

শপথগ্রহণের প্রায় এক সপ্তাহ পর এলাকায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও ‘নির্বাচনে আহত’ নেতাকর্মীদের দেখতে যান তিনি। তবে আহত নেতাকর্মীরা আগে থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমপির আগমন ঘিরে হাসপাতালে আগে থেকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীকে বের করে দিয়ে ‘আহত’ কয়েকজন নেতাকর্মীকে ভর্তি করা হয়। এমপি পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিট দখল করে রাখা নেতাকর্মীরাও চলে যান। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা প্রকৃত রোগী ও তাদের স্বজনরা। তাছাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ড এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে ও চিকিৎসাসেবায় বিলম্ব হয়।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে ভর্তি হওয়া নেতাকর্মীরা বিকেল নাগাদ হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে যেসব রোগীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

এক বৃদ্ধ রোগী বলেন, কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। সোমবার সকালে আমাদের এই রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আমাদের সিটে মারামারিতে আহত কয়েকজনকে রাখা হয়। তাদের সঙ্গে এমপি কথা বলেন ও ছবি তোলেন। এমপি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাও চলে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বজন বলেন, আমাদের রোগী ভর্তি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক লোকজন আসার পর আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দেখি তারা বিকেলেই চলে গেছে।

dhakapost

আক্ষেপ নিয়ে এক রোগী বলেন, এমপি সাহেবকে সালাম দেওয়ার সুযোগও পাইনি। নেতাকর্মীদের চাপে এমপি সাহেব রোগীদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথাও বলতে পারেননি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ২৩ জন রোগী ভর্তি হন। বিকেল গড়াতেই এসব রোগী হাসপাতাল ছাড়েন।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক নার্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের কাছে ভর্তির তালিকা আছে। কিন্তু বর্তমানে ওই রোগীরা হাসপাতালে নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। অসুস্থ নেতাকর্মীদের আমি দেখতে চেয়েছি, তাই তাদের এখানে আসতে বলা হয়েছিল।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দীন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকালীন আহত নেতাকর্মীরা ভর্তি হয়েছেন শুনে এমপি সাহেব হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। রোগী সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। আহতরা আগে চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, পুনরায় চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছিলেন।

এর আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচনী জনসভায় ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি না করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন সরওয়ার জামাল নিজাম। আনোয়ারা উপজেলার চাতুরী চৌমুহনী বাজারে তার দেওয়া ওই বক্তব্যের ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এমআর/এসএসএইচ