জমে উঠছে ঈদের বাজার, শপিং মলে ভিড় ফুটপাতে হাঁকডাক

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শপিং মলগুলোতে কেনাকাটা জমে উঠছে, ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বড় মার্কেট থেকে বাচ্চাদের পোশাক কিনলেও, নিজেদের জন্য বেছে নিচ্ছেন ফুটপাতের সাশ্রয়ী দোকানগুলো।
রাজধানীর নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং মল এবং ফুটপাতে ঈদ উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা গেছে। তবে এই ভিড়ের মাঝেও অনেককেই কেনাকাটা না করে খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ পণ্যের চড়া দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ ড্রেসের কালেকশন দেখে রাখছেন, কিনবেন ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে। এছাড়া পছন্দের পোশাক খুঁজে না পাওয়ায় অনেকেই এখন অনলাইনের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এবার ঈদের কেনাকাটায় মূলত সন্তানদের পোশাকের গুণমানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বাচ্চাদের পছন্দের পোশাক কিনতে তারা শপিং মলগুলোতে ছুটলেও নিজেদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বেছে নিচ্ছেন ফুটপাত।
আরও পড়ুন
রোববার সকালে রাজধানীর গোপীবাগ থেকে নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা রাজীব-মালা দম্পতি; সন্তানদের জন্য মার্কেটের ভেতর থেকে কেনাকাটা করলেও নিজেদের জন্য তারা ফুটপাতের দোকানে পণ্য খুঁজছেন। রাজীব বলেন, পোশাকের দাম এবার অনেক বেশি। দুই সন্তানের জন্য ৩ হাজার টাকা বাজেট থাকলেও খরচ হয়ে গেছে ৫ হাজার টাকারও বেশি। তাই এখন স্ত্রীর থ্রি-পিস আর নিজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সাধ্যের মধ্যে ফুটপাত থেকেই কেনার চেষ্টা করছি।
নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আলী শামীম বলেন, এবার পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম নাগালের মধ্যেই আছে। গতবার পোশাকের দাম ৩০ শতাংশ বাড়লেও এবার বেড়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
এদিকে ভিড় এড়াতে আগেভাগে কেনাকাটা সারতে স্বামীর সঙ্গে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে এসেছেন আয়েশা আক্তার। তবে মার্কেটে এসে তিনি ক্রেতাদের বেশ ভালোই উপস্থিতি দেখতে পান। আয়েশা জানান, যে পছন্দের ড্রেসটি কিনতে এসেছিলেন, তা মার্কেটে খুঁজে পাননি। শেষ পর্যন্ত পছন্দের পোশাক না পেলে অনলাইনে অর্ডার করবেন বলে ভাবছেন তিনি।
শনিবার ইফতার-পরবর্তী সময়ে যমুনা ফিউচার পার্কের দোকানগুলোতে ঈদের আমেজ ও কেনাকাটার ব্যস্ততা দেখা গেছে। মূলত গত শুক্রবার থেকেই এই শপিং মলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।
শো-রুম ‘রয়েল ম্যান’-এর ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার থেকে বিক্রি বেশ ভালো। বিশেষ করে উন্নত মানের টি-শার্টের প্রতি তরুণদের বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ছুটির এই দুই দিনে বিক্রি সন্তোষজনক হলেও ঈদের আগে তা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।
তবে ‘প্লাস পয়েন্ট’-এর শোরুম ম্যানেজার আরাফাত চৌধুরীর মতে, বিক্রি বাড়লেও তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, চাকরিজীবীরা বেতন পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। মূলত বেতন ও বোনাস পাওয়ার পরই মার্কেটে তাদের ঢল নামবে। এখন মূলত ব্যবসায়ী ও অন্যান্য শ্রেণির ক্রেতারা আসছেন। কয়েক দিন পর ভিড় ও বিক্রি-দুটোই কয়েক গুণ বাড়বে।

বড় বড় শপিং মলের তুলনায় রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে এখন ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। বিশেষ করে গুলিস্তানের ফুটপাতে পোশাক ও বিভিন্ন অনুষঙ্গের দোকানে ঈদ উপলক্ষ্যে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতারা জানান, সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জিনিস মেলায় তারা ফুটপাতকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এদিকে ঈদ উপলক্ষ্যে ফুটপাতের দোকানিরাও সংগ্রহে রেখেছেন আধুনিক ও রুচিশীল সব পোশাক।
কেবল গুলিস্তানই নয়, নিউ মার্কেটের সামনের এলাকা, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটের ফুটপাতগুলোতেও কেনাকাটার ধুম পড়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় এসব স্থানে ক্রেতাদের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো।
এমএমএইচ/এমএসএ