সংরক্ষিত নারী আসন : দলগুলোর কাছে জোটের তথ্য চায় ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধভাবে অংশ নেবে কিনা, সেই তথ্য জানাতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (০২ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জোটের তথ্য দিতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করা হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফল স্থগিত থাকায় বর্তমানে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন (তারেক রহমান একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় বর্তমানে ২০৮ জন প্রতিনিধি), জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, এনসিপি ৬টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসন পায়। এছাড়া অন্যান্য (বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি, খেলাফত মজলিস) ১টি করে আসন পায়।
সংরক্ষিত নারী আসনের আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। এই সূত্র অনুযায়ী সম্ভাব্য বণ্টন হতে পারে। বিএনপি ৩৪.৬৬ শতাংশ হিসেবে ৩৫টি আসন (জোট করলে সংখ্যাটি ৩৬ হতে পারে), জামায়াতে ইসলামী ১১.৩৩ শতাংশ হিসেবে ১১টি আসন, স্বতন্ত্র ও নাগরিক পার্টি ১টি করে আসন পেতে পারে। এছাড়া ছোট দলগুলো এককভাবে কোনো আসন না পেলেও জোটবদ্ধ হলে ১টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের পরেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য দাপ্তরিক সব প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে পরে ভোট হবে। এছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনও পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি অংশ নিলেও ৯টি দল কোনো আসন পায়নি। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ভোটের বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ।
এসআর/জেডএস