ইসি কর্মকর্তার হাতে ‘মার খেলেন’ নিরাপত্তা প্রহরী, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল্লাহর বিরুদ্ধে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে শারীরিক নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেন প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব ও রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন বিকেলে অফিস কক্ষের তালা খোলাকে কেন্দ্র করে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল্লাহ হঠাৎ ইসমাইল হোসেনের ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে সহকর্মীরা ইসমাইলকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন (রেজি নং- ৮৭৮৯/৩৩)।
ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকেই জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল্লাহ অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে তুচ্ছ কারণে চরম দুর্ব্যবহার করে আসছেন। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করেও তিনি ইসমাইলকে মারধর করতে উদ্যত হন এবং হুমকি দেন।
অফিসের অন্য কর্মচারীদের দাবি, ওই কর্মকর্তা প্রায়ই কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখান এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এর ফলে অফিসের কর্মপরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লিখিত অভিযোগে ইসমাইল হোসেন উল্লেখ করেন, ওই কর্মকর্তার আচরণ শুধু মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতেও গুরুতর অপরাধ। দীর্ঘদিনের এই অশোভন আচরণের কারণে কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক অব্যাহতি এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘কোনো অফিসারই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শারীরিকভাবে আঘাত করতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনের কোনো অফিসার যদি এটি করে থাকেন এবং কেউ যদি অভিযোগ দেন, তবে আমরা বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেব।’
এসআর/বিআরইউ