চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বহালের দাবি

২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির পর অধিনায়কের ‘সামারি কোর্টে’ চাকরি হারানো বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্যদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো অপরাধ না করেও সে সময় কেবল ‘সংখ্যা পূরণের’ জন্য তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে চরম বৈষম্যের শিকার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা এই দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য জহুরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি যে ঘটনায় অধিনায়ক কর্তৃক চাকরিচ্যুত হয়েছি, আমরা এখানে যারা আজ দাঁড়িয়েছি তারা কেউ জেল খাটিনি। আমরা ন্যূনতম দোষী নই। তৎকালীন সরকার অন্য একটি দেশের সংখ্যা পূরণ করতে এবং অন্য দেশকে খুশি করতে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।’
জহুরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, লোকাল তদন্ত কমিটি বা ইউনিট পর্যায়ের তদন্তে তাকে কখনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘একই অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) ফটোকপি করে দাড়ি-কমা-সেমিকোলন সব এক রেখে আমাদের বাড়ি পাঠানো হয়েছে। অথচ হাজার হাজার বিডিআর সদস্যকে কোনো সাজা না দিয়ে বিভাগে রেখে দেওয়া হলো। আমরা মনে করি, এটি সম্পূর্ণ অন্যায়, বৈষম্য এবং আমাদের ওপর জুলুম। এ কারণেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।’
বক্তারা জানান, এই দাবির সপক্ষে তারা আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং পিলখানায় বাহিনী প্রধানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বিডিআর সদস্যদের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (ইন্টারিম গভর্নমেন্ট) একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার প্রতিবেদন এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তারা দ্রুত ওই প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে যাদের বয়স হয়ে যাওয়ায় আইনগত কারণে চাকরিতে ফেরা সম্ভব নয়, তাদের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি করা হয়।
বক্তব্যকালে জহুরুল ইসলাম সাজার ধরণ তুলে ধরে বলেন, “এখানে তিন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে। একটি হলো ‘ডিসমিস’, যেখানে কাউকে একটি টাকাও দেওয়া হয়নি। যাদের চাকরির বয়স ১০ বছর পূর্ণ হয়েছিল, তাদের ‘লামছাম’ কিছু টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। আর যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে ছিল, তারা নয় বছর নয় মাস চাকরি করলেও কোনো অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা পায়নি। অথচ এই মানুষগুলো একেবারেই নির্দোষ।”
আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, সরকার চাইলে পুনরায় তদন্ত করতে পারে এবং তারা তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন– অধিনায়কের সামারি কোর্ট বিডিআর ২০০৯-এর সাধারণ সম্পাদক সিপাহি মো. জাহাঙ্গীর আলম, নায়েক মো. ফারুক, মকছেদ আলীসহ অনেকে।
এএএম/বিআরইউ