চট্টগ্রামে তথ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

চট্টগ্রামে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের উপস্থিতিতে প্রেস ক্লাবের পরিচালনা নিয়ে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রেস ক্লাবের চলমান বিরোধ ও সাংগঠনিক জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন পক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে মন্ত্রী গঠনতান্ত্রিক উপায়ে বিষয়গুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভা শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকরা সার্কিট হাউজ থেকে বের হওয়ার সময় প্রেস ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব প্রশ্নে বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উপস্থিত অন্য সাংবাদিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এর ফলে কিছুক্ষণ পর উত্তেজনা থামে।
ঘটনার পর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ পৃথক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিচালনা নিয়ে যে সমস্যা, সেই সমস্যা গঠনতান্ত্রিক বিধিবিধানের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন, এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে, কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে গঠনতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যা সমাধানে আমি সহযোগিতা করব।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি প্রতিষ্ঠান। আমি জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাব–প্রতিষ্ঠানে যাই। আমি জানি ক্লাব পরিচালনার একটা নিয়মকানুন আছে। নিয়মকানুন নিয়ে তর্ক হয়, বিতর্ক হয়, আবার সেটা নিয়মের মধ্যেই সমাধান করতে হয়। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিচালনায় যে ব্যত্যয়গুলি ঘটেছে তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। আমি অনতিবিলম্বে এই চট্টগ্রামের মুরব্বী, আমাদের সকলের নেতা, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে পরামর্শ করে আপনাদের মধ্যে থেকে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দলকে ঢাকায় ডাকব, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সমস্যার সমাধান অবশ্যই করব।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের এই বাংলাদেশে নানা সংকটের মূল কারণ হচ্ছে, আমরা এই রাষ্ট্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দাঁড় করাতে পারিনি। যখন কোন প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তির ক্ষমতা বেড়ে যায়, তখন সেটা আর প্রতিষ্ঠান থাকে না। কারণ প্রতিটি ব্যক্তির আয়ু ক্ষণস্থায়ী, তার ক্ষমতাও ক্ষণস্থায়ী। গত ৫৫ বছরের বাংলাদেশে আমরা সেটা দেখেছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকেও আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় নিয়ে আসতে চাই। সেই কাজে যে ব্যত্যয়গুলি ঘটেছে আপনারা তা চিহ্নিত করবেন, আমি কথা দিচ্ছি আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। সব মত, সব চিন্তা নিয়ে সবাইকে মিলে একটা প্রেস ক্লাবেই থাকতে হবে–এটাই আসল সত্য।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বের হওয়ার পথে সাংবাদিকদের ওপর মব তৈরি করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া একদল দুর্বৃত্ত। কিন্তু সাংবাদিকরা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করলে দুর্বৃত্তরা স্থান ত্যাগ করেন। দুর্বৃত্তরা যে চেষ্টা করেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার যখন মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তখন এই ধরনের ঘটনা শুধু গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ নয়, আইনের শাসনের প্রতিও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল বলে মনে করেন নেতৃবৃন্দ।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাংবাদিক নামধারী কতিপয় দুর্বৃত্ত হামলা ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব দখল করে। পরে শতাধিক অপেশাদার, মামলার আসামি ও অপরাধমূলক কাজে জড়িত ভুয়া সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়। গত দেড় বছর ধরে দখলদাররা প্রেস ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রশাসন জুয়ার আসর বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে প্রেস ক্লাবের ২৮৪ জন সদস্যের মধ্যে ৯০ শতাংশ সদস্য ক্লাবে যেতে পারছেন না।
এমআর/এমএসএ