ক্লিকেই মিলছে শাড়ি-পাঞ্জাবি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঈদ কেনাবেচার ধুম

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশজুড়ে কেনাকাটার চিরচেনা আমেজ এখন তুঙ্গে। বরাবরের মতো এবারের ঈদ বাজারেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে কেনাকাটার ধরনে। রোদ, যানজট আর মার্কেটের উপচে পড়া ভিড় এড়িয়ে অনেক ক্রেতারা এখন ঝুঁকেছেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে। আঙুলের এক ক্লিকেই স্মার্টফোনের পর্দায় ভেসে উঠছে নামিদামি ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি কিংবা টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম আর ই-কমার্স সাইটগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাহারি শাড়ি, থ্রিপিস আর গয়না থেকে শুরু করে ছেলেদের আভিজাত্যের পাঞ্জাবি, আতর ও ব্র্যান্ডের ঘড়ি—সবই মিলছে অনলাইনে। ছোট-বড় উদ্যোক্তাদের লোভনীয় অফার আর ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জোয়ারে এবারের ঈদের বাজার অফলাইনের সমানতালে অনলাইনেও হয়ে উঠেছে রীতিমতো জমজমাট।
বিশেষ করে ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করলেই এখন চোখে পড়ছে রঙিন সব বিজ্ঞাপন। কোথাও সিল্কের শাড়ি, কোথাও বা বাহারি পাঞ্জাবির ভিডিও। ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামের জনপ্রিয় অনলাইন উদ্যোক্তাদের সব গ্রুপ আর পেজগুলোতে দেখা যাচ্ছে লাইভ সেশনের ধুম। সেখানে বিক্রেতারা মডেলদের মাধ্যমে পোশাকের মান ও রং তুলে ধরছেন। শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, কাফতান থেকে শুরু করে ছোটদের ফ্রক এমনকি কি গয়নাও বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে হাতে তৈরি ক্লে জুয়েলারি, কুন্দন বা গোল্ড প্লেটেড গয়না এবং নামি ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ও স্কিন কেয়ার কম্বো প্যাকগুলোর চাহিদা তুঙ্গে।
অন্যদিকে ছেলেরা ঝুঁকছেন প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পাঞ্জাবি-পায়জামা, কাবলি এবং শার্টের দিকে। এর পাশাপাশি আভিজাত্য প্রকাশে আতর, পারফিউম এবং স্মার্ট ওয়াচ বা ব্র্যান্ডের ঘড়ি কেনার হিড়িক পড়েছে অনলাইনে। অনেক উদ্যোক্তা আবার টুপি, জায়নামাজ ও তসবিহ নিয়ে তৈরি করেছেন বিশেষ ‘ঈদ গিফট বক্স’।
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এনামুল হাসান অনলাইনে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, একদিকে রোজা অন্যদিকে অফিসে কাজের চাপে মার্কেটে যাওয়ার সময় পাই না। গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের কয়েকটি পেজ থেকে পাঞ্জাবি-পায়জামা এবং আমার স্ত্রীর জন্য সালোয়ার-কামিজ আর গয়না অর্ডার করেছি। ভিডিওতে কাপড় দেখে অর্ডার করায় ঠকার ভয় কম থাকে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো জ্যাম ঠেলে রোজা রেখে মার্কেটে যাওয়ার ধকল সইতে হচ্ছে না।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ও গৃহিণী নাঈমা নাহার বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে এই গরমে নিউ মার্কেট বা গাউছিয়ায় যাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। তাই এবার বাচ্চাদের জামাকাপড় থেকে শুরু করে নিজের জন্য জামদানি শাড়ি—সবই ফেসবুক লাইভ দেখে অর্ডার করেছি। সুবিধা হলো, এখন অনেক পেজ ক্যাশ অন ডেলিভারি দেয়। তাই পণ্য হাতে পেয়ে দেখে টাকা দেওয়ার সুযোগ থাকায় ভয়ও নেই। অনলাইনের কল্যাণে সময় আর শ্রম দুটোই বাঁচল।
এদিকে, বেশ কয়েকজন অনলাইন উদ্যোক্তারা জানান তাদের ব্যস্ততার কথা। তারা বলছেন, মধ্য রমজানের পর থেকে দম ফেলার সময় নেই। আমাদের ইনবক্সে মেসেজের পাহাড় জমেছে। এবার শুধু ঢাকা নয়, গ্রাম থেকেও প্রচুর অর্ডার আসছে। বিশেষ করে আমাদের স্পেশাল ডিজাইনের পায়জামা-পাঞ্জাবিগুলো স্টকের আগেই সোল্ড আউট হয়ে যাচ্ছে।
আবার ব্র্যান্ডগুলোর ডিজিটাল পদচারণায় কেবল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই নন, দেশের নামিদামি ফ্যাশন হাউসগুলোও এখন অনলাইনে সমান সক্রিয়। দেখা গেছে, বড় ব্র্যান্ডগুলোর তাদের অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে দিচ্ছে বিশেষ ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার। একইসঙ্গে ক্রেতা টানতে অনেক অনলাইন শপকে ফ্রি ডেলিভারি কিংবা বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার দিতেও দেখা গেছে।
আরএইচটি/এমএন