সাংস্কৃতিক কূটনীতি জোরদারে সরকারের পদক্ষেপ

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কার্যকর উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খাইয়াম এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম। এ ছাড়া সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ ধরনের সভা এটিই প্রথম।
সভায় বক্তারা বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি ও বিদেশে উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এর অংশ হিসেবে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, শিল্প প্রদর্শনী, বইমেলা, লোকসংগীত অনুষ্ঠান, রন্ধনশৈলী প্রদর্শনী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শনের মতো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও শতাধিক দেশের মধ্যে বিদ্যমান ও স্থগিত থাকা বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় বর্তমান চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, কার্যকর সাংস্কৃতিক কূটনীতি বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
এনআই/বিআরইউ