অগ্রিম বাস টিকিট শেষ, বিক্রি বন্ধ অনেক পরিবহনে

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে অগ্রিম টিকিটের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবহন জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের কথা উল্লেখ করে অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে। আবার কিছু নামী পরিবহনের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
গত ৩ মার্চ থেকে ঈদ উপলক্ষ্যে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু দুই দিনের মধ্যেই জ্বালানি সংকটের অজুহাতে দেশের অনেক পরিবহন মালিক টিকিট বিক্রি স্থগিত রাখেন। অন্যদিকে কয়েকটি বড় কোম্পানি অগ্রিম টিকিট বিক্রি চালু রাখলেও তাদের ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের টিকিট ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার ঘুরে এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের বেশিরভাগ কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড় নেই। কাউন্টারকর্মীরাই অপেক্ষা করছেন। বেঞ্চে কিছু যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। মাঝে মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী বাসের কাউন্টারে কয়েকজন যাত্রী এসে টিকিট সম্পর্কে জানতে চাইছেন, পরে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

ঢাকা–জামালপুর রুটের রাজিব এন্টারপ্রাইজ, ঢাকা–মাদারগঞ্জ রুটের ক্রাউন ডিলাক্স ও মাদারগঞ্জ স্পেশাল কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, তারা ঈদ উপলক্ষ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছেন না। কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের পরিবহনে সাধারণত কখনোই অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয় না।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ রুটের এনা ট্রান্সপোর্ট, এস আর ট্রাভেলস, অরিন ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ঈদের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
ঢাকা–বগুড়া রুটের একতা ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারে দেখা গেছে, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয় না’— এমন একটি ব্যানার টাঙানো রয়েছে। সেখানে যাত্রীরা মাঝেমধ্যে এসে চলতি বাসের টিকিট সংগ্রহ করছেন। তবে ঈদের অগ্রিম টিকিট আর নেই বলে জানানো হয়েছে।
শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টারে ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের টিকিট নেই বলে লিখে রাখা হয়েছে। কাউন্টারকর্মীরা জানান, তাদের অগ্রিম টিকিট প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা–সিরাজগঞ্জ রুটের এসআই এন্টারপ্রাইজ ও সেবা লাইন ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে না। এসআই এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, এসআই শুরু থেকে কখনোই ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেনি। কারণ, অগ্রিম টিকিট বিক্রি করে রাখলাম, কিন্তু বাস যমুনার সেতুর জ্যাম পেরিয়ে আসতে পারলো না তখন তো বিপদ হয়। যাত্রীর উত্তেজিত হয়ে যায়। তাই আমরা অগ্রিম টিকিট বিক্রি করি না।
নওগাঁগামী যাত্রী আশরাফুল ইসলাম ঈদের আগে ১৮ মার্চের টিকিট কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান। তিনি বলেন, আগে একদিন অনলাইনে টিকিট পাইনি। তাই কাউন্টারে এসেছিলাম। আজও তিনটি বাসের কাউন্টারে চেষ্টা করলাম, কিন্তু কোনো টিকিট পেলাম না।
দিনাজপুরের যাত্রী সাকিবুল হাসান বলেন, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে অফিস শেষে কাউন্টারে এসেছিলাম। আমার দুইটি সিট দরকার ছিল। কিন্তু এখান থেকেও জানানো হয়েছে, সব টিকিট শেষ।
এমএইচএন/এমএন