কর্ণফুলীতে ড্রেজিং বন্ধের নির্দেশ থানার, সিএমপি কমিশনারকে বন্দরের চিঠি

কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বাকলিয়া থানা পুলিশ। এর জেরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে জরুরি চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে— চিঠিতে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারকে জরুরি চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বন্দরের হাইড্রোগ্রাফার বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বন্দর সচিব। চিঠিতে কর্ণফুলী নদীর উজানে চলমান ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন হয়। তাই বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেলে বড় জাহাজ বন্দরে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতাও কমে যায়। এতে জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বন্দরের সীমানা হালদা নদীর মোহনা থেকে দক্ষিণে কক্সবাজার এবং উত্তরে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। কর্ণফুলী নদীর উজানে পানির প্রবাহ ও নাব্যতা বাড়লে ভাটিতে পলি জমা কমে যায়। এতে জেটি এলাকাসহ নদীর নিম্নাংশে নাব্যতা বজায় রাখা সহজ হয় এবং ড্রেজিং ব্যয়ও কমে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, শাহ আমানত সেতুর উজান ও ভাটিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর বর্তমানে সংরক্ষণ ড্রেজিং চলছে। সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত এলাকায় আটটি খালের মুখে ড্রেজিং করায় খালগুলোর নাব্যতা বেড়েছে। এতে শহরের ব্যবহৃত পানি সহজে নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে বাকলিয়া চর, শিকলবাহা, নাজিরচর ও কালুরঘাট এলাকায় নদীর গভীরতা কমে যাওয়া অংশে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন-২০২২ অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিয়ে নির্দিষ্ট গভীরতা বজায় রেখে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দিয়েছে। এর আগে এসব এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলনের ঘটনা ঘটত বলে জানানো হয়েছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রম বন্ধ রাখতে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ১ মার্চ থেকে কাজ শুরু হলেও বাকলিয়া থানা থেকে আবারও এ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে।
চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ড্রেজিং বন্ধ থাকলে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে বন্দরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে, বৈদেশিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং একই সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে কর্ণফুলী নদীর উজানে বন্দরের নিয়োজিত ঠিকাদারদের মাধ্যমে ড্রেজিং ও ডাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সিএমপি’র সহযোগিতা কামনা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বিষয়টিকে জরুরি উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরএমএন/এমএসএ