বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ইতিহাসের বিরল অধ্যায়

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৩ জুলাই ২০২১, ০৯:৩০ পিএম


বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ইতিহাসের বিরল অধ্যায়

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সংগ্রাম-আন্দোলন, অনেক রক্তঝরা পথে এসেছে আজকের গণতন্ত্র। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ইতিহাসের বিরল এক অধ্যায়। শনিবার (৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্পিকার বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল উন্নত সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেন। তারই পথ ধরে আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৩টি বাজেট উন্নয়ন কাঠামো স্থাপন ও ভিত রচনা করেছে। বিশ্বের অনেক গবেষণা থেকে দেখা যায়, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাঝে এক নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৩ বছরে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংসদীয় গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব ও কার্যকর অগ্রযাত্রা, সংবিধান সম্মত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন, সঠিক নেতৃত্বই আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত রচনা করেছে। সেই সঙ্গে রয়েছে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণের নিরন্তর প্রচেষ্টা, নিরলস শ্রম, গভীর দেশপ্রেম, আত্মপ্রত্যয় ও শত প্রতিকূলতার মাঝে রুখে দাঁড়ানোর ও ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস ও সক্ষমতা। 

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যাপক সমালোচনা শুনে থাকি। জাতীয় সংসদ এবং নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও নানা কটাক্ষ শোনা যায়। আমাদের গণতন্ত্রকে অন্যান্য অনেক দেশের ম্যাচিউরড ডেমোক্রেসির সঙ্গেও তুলনা করা হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে তাহলে কোন গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে? তাহলে কি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কথা বলা হচ্ছে? আসুন তাহলে দেখি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ কখন ঘটে। সেটা তখনই ঘটে, যখন তার জন্য একটা বেসিক ফ্রেমওয়ার্ক বা মৌলিক কাঠামো তৈরি করা হয়।  

তিনি বলেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আসুন আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিবর্তনের ইতিহাসটা একটু বিশ্লেষণ করি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে আমাদের দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান। গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র ছিল তার চারটি মূল নীতি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সংবিধান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। সামরিক ফরমান জারির মাধ্যমে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে সংবিধান। 

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইনের শাসনের পরিবর্তে সেদিন কালচার অব ইমপিউনিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আইনের শাসন পর্যুদস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়েছে। কাজেই অনুধাবন করতে হবে, এ রকম বৈরী আবহ থেকে লুপ্ত প্রায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আজকের অবস্থানে আনতে কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। 

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক টার্নিং পয়েন্ট। দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মৃতপ্রায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মৌলিক কাঠামো বিনির্মাণ যে ছিল অপরিহার্য পূর্বশর্ত, তা শেখ হাসিনা গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন। 

স্পিকার বলেন, শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেছিলেন, সাংবিধানিক ডিরেইলমেন্ট থেকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ট্র্যাকে তুলতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আইনের শাসন, বিচার পাওয়ার অধিকার, ভোটের অধিকার। মৌলিক কাঠামো নির্মাণ করতে হবে। শুরু হয় আন্দোলন-সংগ্রাম। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার আন্দোলন। সংগ্রাম-আন্দোলন, অনেক রক্তঝরা পথে এসেছে আজকের গণতন্ত্র। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম ইতিহাসের বিরল এক অধ্যায়। 

তিনি বলেন, আমি বলছি না যে গণতন্ত্রের আবহে আলোচনা সমালোচনা থাকবে না, অবশ্যই আলোচনা-সমালোচনা থাকবে। ভিন্নমত পোষণ, দ্বিমত পোষণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বস্তুনিষ্ঠ গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। কিন্তু সেই সমালোচনা সঠিক পারস্পেকটিভ অনুধাবন করে হলে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও ক্রেডিবল হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অধিকতর পরিশীলিত করা, শাণিত করার লক্ষ্যে অবশ্যই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডেমোক্রেসি ইজ অলওয়েজ ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস।

এইউএ/আরএইচ 

Link copied