• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. জাতীয়

অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় শিশুশ্রমের হার বাড়ছে ২.৪ শতাংশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩০
অ+
অ-
অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় শিশুশ্রমের হার বাড়ছে ২.৪ শতাংশ

প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি নিশ্চিত হলেও শিক্ষার্থীদের বড় অংশ মাঝপথেই ঝরে যাচ্ছে। উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত হতে হচ্ছে। যার ফলে দেশে শিশুশ্রমের হার বাড়ছে। শিশুশ্রমের হার প্রায় ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।

বিজ্ঞাপন

আজ (সোমবার) রাজধানীর একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে “নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ” শীর্ষক একটি সংলাপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংলাপে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংলাপটি সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সংলাপে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও  বিশেষ অতিথি হিসাবে শিক্ষা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী।

প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন ভর্তি নিশ্চিত হলেও পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলেদের ভর্তির হার একসময় প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছালেও ২০২৪ সালে তা কমে প্রায় ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরে ভর্তি নিশ্চিত হলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত শিক্ষার বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে উত্তরণের হারও সন্তোষজনক নয়। অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না বা মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, গ্রামীণ এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সামাজিক অবস্থার কারণে অনেক শিশুকে অল্প বয়সেই উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত হতে হচ্ছে। দেশে শিশুশ্রমের হার বাড়ছে। ২০১৯ সালে যেখানে শিশুশ্রমের হার ছিল প্রায় ৬.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ শিশুশ্রমের হার প্রায় ২.৪ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সিপিডির গবেষণায় বলছে, শিক্ষার ব্যয় ও সুযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে। দেশে মোট শিক্ষা ব্যয়ের ৫০ শতাংশেরও বেশি পরিবারগুলো নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করে, যা শিক্ষাকে অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের জন্য কঠিন করে তোলে। প্রাথমিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের মাসিক শিক্ষাব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদিও সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে, তবু বাস্তবে গাইড বই, কোচিং ও অতিরিক্ত শিক্ষাসামগ্রীর জন্য পরিবারগুলোকে নিয়মিত ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণের জন্য অভিভাবকরা কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধাও সীমিত। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অনেক স্কুলে নেই। একইভাবে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধার অভাবও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন
সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা
চট্টগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে দুই হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
সময় মতো ছাড়ছে ট্রেন, কড়াকড়িতে খুশি যাত্রীরা

অন্যদিকে দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১৩.৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ যারা বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছে, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডিগ্রি অর্জন করছে, কিন্তু সেই শিক্ষার মাধ্যমে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সব সময় অর্জিত হচ্ছে না। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পরও চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। আধুনিক শ্রমবাজারে শুধু ডিগ্রি বা সনদই যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারিক ও মানসিক দক্ষতা। শিক্ষা ব্যবস্থা যদি ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে শিক্ষিত বেকারত্ব আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডিগ্রি-কেন্দ্রিক শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তর। এই পরিবর্তন না হলে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব কমানো এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

আরএম/এনএফ

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

শিশুশ্রম

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

শিশুশ্রমে আরও ১২ লাখ শিশু, চারজনে এক শিশুর রক্তে সীসা

এমআইসিএস জরিপে ভয়াবহ চিত্রশিশুশ্রমে আরও ১২ লাখ শিশু, চারজনে এক শিশুর রক্তে সীসা

নভেম্বরের মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন : শিশুশ্রমের শাস্তি বাড়ছে কয়েকগুণ

নভেম্বরের মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন : শিশুশ্রমের শাস্তি বাড়ছে কয়েকগুণ

দেশে শিশু দারিদ্র্যের হার ১৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ

দেশে শিশু দারিদ্র্যের হার ১৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ

শিশুদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর, আর কত অপেক্ষা

শিশুদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর, আর কত অপেক্ষা