তর সইছে না... মেয়ের মুখে শুনবেন বাবা ডাক; মা-স্ত্রীকে দেবেন নতুন কাপড়

গত মাসে সরকারি একটি দপ্তরে চাকরিটা নিশ্চিত হয়েছে সবুজের। নানা কারণে গত ১০ মাস বাড়ি ফেরা হয়নি তার। ঈদ উপলক্ষ্যে এসেছে সেই সুযোগ। এই দীর্ঘ সময় একমাত্র কন্যা, মা ও স্ত্রীর সাথে শুধু ভিডিও কলেই কথা হয়েছে। এবার সরাসরি মেয়ের মুখে শুনবেন বাবা ডাক, স্ত্রী ও মায়ের হাতে তুলে দেবেন নতুন কাপড়। আর তাই যেন তর সইছে না সবুজের… কখন যাবেন বাড়ি, পাবেন প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য।
বিজ্ঞাপন
নারায়ণগঞ্জের একটি সরকারি দপ্তরে চাকরি করা সবুজের সঙ্গে কথা হয় কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে। কাল থেকে ছুটি সবুজের।
হানিফ পরিবহনের যাত্রী সবুজ কয়েকজন বন্ধু মিলে এক সঙ্গে বাড়ি ফিরছেন। তার বাড়ি ফেরাটা ভিন্নরকম অনুভূতির।
সবুজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, “মেয়ের বয়স দেড় বছর। কেবল বাবা ডাক শিখেছে। ফোনে ফোনেই বাবা ডাকে, এবার শুনব। ভাবতেই শিহরিত হচ্ছি। স্ত্রী ও মা অপেক্ষায়। অনেক অনক কেনাকাটা করেছি। এখন শুধু ফেরার পালা।” রাত সাড়ে ১০ টায় ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সবুজের বাস।
বিজ্ঞাপন
আজ ২৬ রমজান। ২৯ রমজানে চাঁদ উঠলে ২০ তারিখ ঈদ। নয়ত ঈদ ২১ মার্চ। এমন সমীকরণে ঘরমুখো মানুষের যেন সব বেড়িয়ে পড়েছেন নাড়ির টানে। যাত্রীর জনস্রোতের গন্তব্য যেন আজ সব বাস লঞ্চ ও রেল স্টেশন গুলোতে।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীতে ঠাসা বাস টার্মিনাল, প্রতিটি কাউন্টারে যাত্রীর চাপ। যাত্রী ছাউনি ছাপিয়ে চায়ের দোকান, ফুটপাত, ফাঁকা সব জায়গায় লাগেজ, ব্যাগ নিয়ে সিডিউল বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা। সিডিউল মেনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে সব বাস।
কাউন্টারে বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অনেকে ভিডিও কলে অথবা ফোনে কথা বলে স্বজনদের জানান দিচ্ছেন একটু পরেই ছেড়ে যাবে বাস। সকালেই হচ্ছে কাঙ্খিত সেই সাক্ষাৎ, দেখা।
বিজ্ঞাপন
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ডের কাউন্টার মাস্টার মিনহাজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদিন আগে থেকে ঈদযাত্রার বাস ছেড়েছি। তবে আজ সবচেয়ে বেশি চাপ কাউন্টারে। কারণ কাল থেকে সরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ।
তিনি বলেন, ২৭/২৮ টা বাস ছেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। আজ কোনো বাসের সিট খালি নেই। সড়কে যানজট নেই, যান চলাচল স্বাভাবিক। সিডিউল বিপর্যয় না থাকায় যাত্রীরাও স্বস্তি প্রকাশ করছেন।
নাবিল পরিবহনের সৈয়দপুরের যাত্রী নবীবুর রহমান বলেন, প্রতি ঈদেই সড়কে যানজট লাগে। কাউন্টারে পৌঁছাতেই বাড়তি সময় লেগে যায়। কখনো কখনো সিডিউল বিপর্যয় তো ভোগান্তিতে ফেলে। আজ আগেই কাউন্টারে পৌছে গেছে। কাউন্টারে বসার অবস্থা নেই। প্রচুর যাত্রী। কিন্তু স্বস্তিবোধ করছি কারণ কোনো বাস দেরি করছে না। সব বাস সময় মতো ছেড়ে যাচ্ছে।
নাবিল পরিবহনের মাস্টার নুরুন্নবী বলেন, কোনো সমস্যা নেই। সড়কে যানজট নেই। যানচলাচল স্বাভাবিক। তবে ঢাকার ভেতরেই একটু ঝামেলা।
দেশ ট্রাভেলসের যাত্রী আবিদা সুলতানা বলেন, দুদিন আগে সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ করেছি। কাল কেনাকাটা আজ ব্যাগ গুছিয়ে সোজা কাউন্টারে। গন্তব্য গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বাবা-মা অপেক্ষায়। ছোট ভাইটা ক্ষণে ক্ষণে ফোন দিচ্ছে। ভীষণ অস্থির লাগছে, কতক্ষণে ফিরব বাড়ি!
দেশ ট্রাভেলস ঢাকা ম্যানেজার জানে আলম রাজন বলেন, “যাত্রীর বাড়তি চাপ আজ। যাত্রীদের জন্য চা, পানির ফ্রি ব্যবস্থা রেখেছি। বাস যেন সময় মতো গন্তব্যে ছেড়ে যায় সেজন্য যথাসাধ্য সব করেছি। সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা এখনো নেই। তবুও কিছু বাস ফ্রি রেখেছি। যাতে যাত্রীরা স্বস্তিতে যান ভোগান্তিতে না পড়েন। দিনশেষে যাত্রী সেবাই আমাদের ব্রত। “
জেইউ/এমটিআই