ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি গণভোটের রায় মানার কথা বলেছিল : বদিউল আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি গণভোটের রায় মানার কথা বলেছিল বলে জানিয়েছেন সুজনের প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তার পক্ষে শুনানি করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভুঁইয়া ও আইনজীবী কারিশমা জাহান উপস্থিত ছিলেন।
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গত রোববার প্রকাশ করা হয়েছে। এ রায়, সংবিধান সংস্কার ও সংস্কার পরিষদ নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টা হবেন। কিন্তু আলটিমেটলি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আমরা কীভাবে দেখবো তা নির্ভর করবে দুটি জিনিসের ওপর। একটা হলো-পঞ্চদশ সংশোধনীর মামলার রায়। তারা কি রায় দেন এবং পর্যবেক্ষণ দেন। দ্বিতীয়টা হলো-জুলাই সনদ যে সাক্ষ্যরিত হয়েছে, গণভোটে যে পাশ হয়েছে ৪৮টা বিষয়ে ওপর। (তত্ত্বাবধায়ক সরকার চূড়ান্ত হবে) গণভোটের মাধ্যমে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হওয়ার কথা তার মাধ্যমে এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।
বিজ্ঞাপন
এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা দেখার বিষয়। আমরা অপেক্ষা করতে পারি। আশা করি রাজনীতিবিদরা অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। অতীতের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি হবে না। তারা প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন। জনরায়ের মাধ্যমে যে বিষয়টা (গণভোট-জুলাই জাতীয় সনদ) চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে সেটা নিয়ে আমরা যেন বিতণ্ডা না করি, জটিলতা সৃষ্টি না করি। এটা কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।
‘এটার (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সংসদে। আশা করি সংবিধান সংস্কার পরিষদে। এটার ব্যাপারে জনগণ রায় (গণভোট) দিয়েছে। এখানে (জুলাই জাতীয় সনদ) যে পদ্ধতি বলা আছে সেটাই চূড়ান্ত হবে বলে আশা করি। এটাই আমার আকাঙ্ক্ষা। গণভোটে যেটা পাশ হয়েছে সেটাই শেষ কথা।’
তিনি আরও বলেন, গণভোটে যে ৪৮টি বিষয় জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। জনগণ হ্যাঁ এর পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট সবাই এটা মেনে নিয়ে সংবিধান সংশোধন করবে।
বিজ্ঞাপন
গণভোটের ফলাফলের ভবিষ্যৎ কী এমন প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলশ মজুমদার বলেন, এটা আমাদের দেখার বিষয়। আমরা যখন ঐকমত্য কমিশনে ছিলাম বিএনপির পক্ষ থেকে যারা সেখানে প্রতিনিধিত্ব করেছিল তারা যে বক্তব্য দিয়েছে তারা কিন্তু গণভোটের রায় মানার কথা বলেছিল।
আমরা আশা করি জনগণের রায় মেনে নিয়ে দরকার হলে সরকারি দল বিরোধী দল আলাপ আলোচনা করে জনগণের রায়কে সমুন্নত রাখবে।
আইনজীবী ড. শরীফ ভুঁইয়া বলেন, রায়ে আমরা খুব সন্তুষ্ট। এটা দেশের জন্য ঐতিহাসিক। কারণ এ ব্যবস্থাটা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। সুপ্রিম কোর্টের যে ভুল ছিল (তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে) সেটা সংশোধন করা হয়েছে। জাতির যে দুঃখবোধ সুপ্রিম কোর্টের ব্যাপারে থাকতে পারে সেটা সংশোধন হয়েছে।
জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি ভিন্নরূপ পাবে। আদালতও রায়ে এটার জন্য সুযোগ খোলা রেখেছেন। জনগণের কল্যাণে এ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সংসদের কোনো বাধা নেই।
এমএইচডি/এমএন