• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

  1. জাতীয়

মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি

মো. নজরুল ইসলাম
মো. নজরুল ইসলাম
১৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:৩৮
অ+
অ-
মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এবার নতুন নোট ছাড়েনি বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ঈদের সালামি ও উপহারের জন্য নতুন টাকার খোঁজে বাধ্য হয়ে ফুটপাতে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে ১০০ টাকার একটি বান্ডিল কিনতেই ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বিজ্ঞাপন

এই অবৈধ বেচাকেনা ঠেকাতে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকায় বিক্রেতাদের সঙ্গে পুলিশের ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চললেও গুলিস্তানে খোদ পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে চলছে নতুন নোটের পসরা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা। ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল অনেকটাই শান্ত। সড়কে মানুষের আনাগোনা কম, যানবাহনও হাতে গোনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের বটতলায় ফুটপাতে ছেঁড়া টাকার বেচাকেনার অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব দুই ব্যক্তি। তাদের পাশ ঘেঁষে বসে আছেন আরও দুজন। তাদের সঙ্গে একটি করে ব্যাগ।

মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে দুজন ব্যক্তির আগমন। তারা ছেঁড়া টাকার এক বিক্রেতার কাছে জানতে চান, নতুন টাকার নোটের দোকানগুলো নেই কেন? এ সময় ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা দুই ব্যক্তি বলতে লাগলেন, ‘লাগবে কত বলেন।’ ক্রেতা তার চাহিদামতো টাকা চাইতেই একজন ব্যাগ খুলে নতুন টাকা বের করলেন। তার ব্যাগভর্তি নতুন টাকা।

বিজ্ঞাপন

সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফটকের সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা গেল। তাদের দেখে টাকা বিক্রি না করেই ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালান একজন। কিছুদূর গিয়ে ক্রেতাকে তার কাছে যেতে বলেন। সেখানেই দরদাম হলো, বিকিকিনিও হলো। আরও কয়েকজন ক্রেতা দরদাম করে নতুন টাকা কিনলেন।

মোহাম্মদ স্বপন নামের এই বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদে নতুন টাকার কদর থাকে। ব্যাংকও নতুন টাকা দিচ্ছে না। মানুষ আমাদের কাছে যা পায় কিনে নেয়। কিন্তু পুলিশের জ্বালায় ঠিকমতো বসতে পারি না। একটু পরপর দৌড়ানি দেয়। দুই ঘণ্টায় ৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি। টাকার রেট বেশি। ব্যাংকও বন্ধ হয়ে যাবে। কাল থেকে টাকার রেট আরও বেশি হবে।’

স্বপনের দেওয়া তথ্যমতে, পুরোনো নকশার ২ টাকার নতুন এক বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে। ১০ টাকার পুরোনো নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বাড়তি দামে; আর নতুন নকশার নোটে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকার নতুন নকশার নোট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও পুরোনো নকশার নোটের বান্ডিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার নতুন নকশার নোট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও পুরোনো নকশার নোটের বান্ডিল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর ১০০ টাকার নতুন নকশার নোট ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও পুরোনো নকশার নোট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গুলিস্তানে স্পোর্টস মার্কেটের সামনের ফুটপাতে চিত্র একেবারে ভিন্ন। নতুন নোট পণ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি বেআইনি হলেও সেখানে পুলিশের সামনেই নতুন নোটের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। ঈদের সালামি ও উপহার দেওয়ার জন্য অনেকেই নতুন নোট কিনতে ভিড় করছেন। বিক্রেতারা বিভিন্ন অঙ্কের নতুন নোট সাজিয়ে ফুটপাতে বিক্রি করছেন। বিশেষ করে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটের চাহিদা বেশি। এসব অঙ্কের নতুন ও পুরোনো নকশার বান্ডিল পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্রেতা নতুন নকশার নোটের জন্য কিছুটা বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন। ক্রেতাদেরও নতুন নকশার নোটের ওপর চাহিদা বেশি।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এখানে পুরোনো নকশার ২ টাকার নতুন এক বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা বাড়তি দামে। ৫ টাকার নতুন এক বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা বাড়তি দামে। ১০ টাকার পুরোনো নকশার নোট বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা বাড়তি দামে; আর নতুন নকশার নোটে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৪৫০ টাকা। এছাড়া ২০ টাকার নতুন নকশার নোট ৩৫০ ও পুরোনো নকশার নোটের বান্ডিল ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার নতুন নকশার নোট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও পুরোনো নকশার নোটের বান্ডিল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর ১০০ টাকার নতুন নকশার নোটের বান্ডিল ৫০০ টাকা ও পুরোনো নকশার নোটের বান্ডিল ৪৫০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন নোট কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, ব্যাংকে গিয়ে নতুন নোট পাননি তারা। সে জন্য ফুটপাতই তাদের ভরসা। তবে বিক্রেতারা অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হলেন ইমতিয়াজ আহমদ
ভাইরালের নেশায় মহাসড়কে ‘মরণ খেলা’ : ঝুঁকিতে যাত্রী ও পথচারী
ঈদযাত্রায় কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয় : আইজিপি

মো. জুবায়ের তার ছোট বোনকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছেন। গুলিস্তান থেকে তিনি বাসে উঠবেন। বাসে চড়ার আগে নতুন নোট কিনতে গুলিস্তানে স্পোর্টস মার্কেটের সামনের ফুটপাতে আসেন তিনি। জুবায়ের বলেন, ‘ব্যাংকে গিয়ে নতুন নোট পাইনি। বাধ্য হয়ে ফুটপাতে আসতে হয়েছে। প্রচুর মানুষের ভিড় ঠেলে নতুন নোট নিলাম। হাজারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি দিয়ে নতুন টাকা নিতে হলো।’

এক দিন আগেই গুলিস্তান থেকে ২ হাজার টাকার নতুন নোট নিয়ে যান ইস্কাটনের বাসিন্দা মো. হান্নান। তিনি বলেন, ‘কালকে কিছু নতুন নোট নিয়ে গেলাম। এক দিনের ব্যবধানে সব নোটেই ৫০ টাকা করে বেশি দিতে হলো।’

নতুন নোটের ব্যবসায়ীরা জানান, শেষ মুহূর্তে নতুন নোটের বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে। সোমবার ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি ছিল, আজও তুলনামূলক একই অবস্থা। তারাও ব্যাংক থেকে চাহিদা অনুযায়ী বেশি টাকা বের করতে পারেননি। সে জন্য কিছুটা বাড়তি দামে নতুন নোট বিক্রি করতে হচ্ছে।

আবু কায়সার নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘আজকে যে দামে পাওয়া যাচ্ছে এক দিন পর এটা আরও বাড়বে। ব্যাংক বন্ধ। টাকা বেশি পাওয়া গেলে আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারি।’ আরেক বিক্রেতা জানান, নতুন নোটের মূল ব্যবসাতো হয় এই ঈদে। কয়টা টাকা বেশি না নিলে পরিবার নিয়ে ঈদ করমু কেমনে?

গুলিস্তানে নতুন নোট বিক্রির ভ্রাম্যমাণ দোকানের সামনের সড়কে টহল দিচ্ছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। মো. ইদ্রিস নামের এক পুলিশ সদস্যের কাছে ‘ঢাকা পোস্ট’ জানতে চায়, নতুন নোট পণ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি বেআইনি, সামনে একটি বেআইনি কাজ হতে দেখেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? তবে ইদ্রিস কোনো মন্তব্যই করতে রাজি হননি।

গুলিস্তানে বেশ কিছুটা সময় সরেজমিন করে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের বাইরে কেউ কেউ নতুন নোট কিনতে আসাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা ব্যবসায়ী যে দামে বিক্রি করছেন, তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে নতুন নোট বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছেন। এমন দুজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তবে তারা কেউই তাদের পরিচয় জানাতে রাজি হননি।

এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সাধারণ নাগরিকদের জন্য টাকার নতুন নোট ছাড়েনি বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন টাকার নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাজারে নতুন নোট পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা যদি এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতিটি উৎসবেই নতুন নোটের চাহিদা থাকে। তবে নতুন নোটের আকাঙ্ক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ আমরা ক্যাশলেস বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি। নতুন নোট কোনো পণ্য নয়, যে তা বিক্রি হবে। নতুন পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যদি নতুন নোট বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হয়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এনআই/বিআরইউ

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

পুলিশরাজধানীর খবরবাংলাদেশ ব্যাংক

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ভাইরালের নেশায় মহাসড়কে ‘মরণ খেলা’ : ঝুঁকিতে যাত্রী ও পথচারী

ভাইরালের নেশায় মহাসড়কে ‘মরণ খেলা’ : ঝুঁকিতে যাত্রী ও পথচারী

উত্তরখানে ঈদগাহ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

উত্তরখানে ঈদগাহ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

ঈদযাত্রায় কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয় : আইজিপি

ঈদযাত্রায় কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয় : আইজিপি

২০ বছর আগে নিয়োগ বাতিল হওয়া ৩৩০ পুলিশ সদস্যকে চাকরি দিচ্ছে সরকার

২০ বছর আগে নিয়োগ বাতিল হওয়া ৩৩০ পুলিশ সদস্যকে চাকরি দিচ্ছে সরকার