ট্রেনের ছাদে চড়ে ঘরমুখো মানুষের ‘বৃষ্টিভেজা ঈদযাত্রা’

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী এক বা দুই দিন পরেই দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কেনাকাটা শেষে নাড়ির টানে ঘরমুখো লাখো মানুষের স্রোত এখন রেলপথে। তবে দুদিন আগের স্বস্তির ভ্রমণ এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য টিকিট কেটেও নিজের আসনে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপচে পড়া ভিড় আর বজ্রবৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই আজ (বুধবার) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে শত শত মানুষকে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৮টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’।
উত্তরাঞ্চলগামী এই ট্রেনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী নিজের বগিতে প্রবেশ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রেনের গেটে ঝুলে এবং ছাদে চড়ে যাত্রা শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাজধানীতে শুরু হয় বজ্রবৃষ্টিসহ দমকা হাওয়া। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও শত শত যাত্রীকে মাথায় পলিথিন মুড়িয়ে ট্রেনের ছাদে ভিজে ভিজে গন্তব্যে ছুটতে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিন দেখা গেছে, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে তপ্ত ভিড়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ভিড়ের কারণে অনেক অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীও নিজের আসনে পৌঁছাতে পারছেন না। ট্রেনের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকার মতো ন্যূনতম জায়গা না পেয়ে যাত্রীরা দলে দলে ট্রেনের ছাদে চড়ছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে যাত্রীদের ছাদ থেকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ করলেও বিপুল জনস্রোতের কাছে তা অরণ্যে রোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যাওয়ার সময় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় আগের মতোই ছিল।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়েই তারা ছাদে উঠেছেন। কেউ কেউ ছোট শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছেন। কুড়িগ্রামগামী এক যাত্রী বলেন, ‘ঈদের সময় বাড়ি না গেলে পরিবার কষ্ট পায়। টিকিট পাইনি, ভেতরেও জায়গা ছিল না। তাই ঝুঁকি জেনেও ছাদে উঠেছি।’
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবরই ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ না করার জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে আসলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদযাত্রায় একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ভিড়, অনিশ্চয়তা আর আবহাওয়া– সব বাধা ছাপিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই জীবনজয়ী যাত্রা।
এমএমএইচ/বিআরইউ