চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শুক্র বা শনিবার (২০ বা ২১ মার্চ) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটি থাকায় ঢাকা ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন লাখ লাখ মানুষ। ফলে চিরচেনা ব্যস্ততা আর যানজটে ক্লান্ত এই নগরী এখন অনেকটাই ফাঁকা। কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর সড়কগুলোতে নেই আগের সেই ভিড়, নেই হর্নের শব্দ আর তীব্র যানজট। ফলে যানজটমুক্ত নগরী এখন অনেকটাই স্বস্তির।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলী, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন, মতিঝিলসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এসব এলাকার সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য বৃহস্পতিবারের তুলনায় যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। অনেকক্ষণ পরপর সীমিত হারে চলাচল করছে অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজির উপস্থিতিও রয়েছে কম। তবে অটোরিকশার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সড়কে নেই সেই দীর্ঘ যানবাহনের সারি, নেই বিরক্তিকর হর্নের শব্দ।

এছাড়া সড়কে মানুষের উপস্থিতিও কম। তবে ঢাকা ছেড়ে বিভিন্ন গন্তব্য যাওয়ার রুটে চলাচল করা গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকলেও যাত্রীদের চাপ ছিল অনেক। এছাড়া কোথাও কোথাও যাত্রীর অপেক্ষায় গণপরিবহনকে দাঁড়িয়ে থাকতে আবার কোথাও বেশ কিছু যাত্রীকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
গণপরিবহনের অপেক্ষায় মগবাজার ওয়ারলেসে দাঁড়িয়ে আছেন আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। যাত্রাবাড়ীতে গিয়ে গাড়িতে উঠবো। প্রায় ১০-১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি, কোনো গাড়ি পাইনি।

অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর বলেন, রাস্তা ফাঁকা। বাসের সংখ্যা কম থাকায় আমাদের চাহিদা বেশি। জ্যাম না থাকায় তাড়াতাড়ি যাতায়াত করতে পারছি।

মেট্রোরেলেও যাত্রীর চাপ কম
এদিকে মেট্রোরেলেও যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম দেখা গেছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল ছেড়ে আসা মেট্রোতে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তাদের অনেকেই গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে উঠবেন। এছাড়া অনেকেই সদরঘাট থেকে লঞ্চে উঠবেন বলে জানান। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ আগারগাঁও থেকে মেট্রোরেলে চড়ে সচিবালয়ের স্টেশনে নেমেছেন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বলেন, অন্যান্য দিনের মতো আজ তেমন একটা ভিড় চোখে পড়েনি। এছাড়া রাস্তাঘাটও ফাঁকা। এই অবস্থা দেখে মনেই হয়নি আজ বৃহস্পতিবার।
এনআর/এমএন
