কাউন্টারে নেই তেমন বিক্রি, বাইরে নেমে যাত্রী খুঁজছেন পরিবহন শ্রমিকরা

ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর বাসের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা– ঈদের আগে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের চেনা চিত্র এটিই। তবে এবার দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ঈদযাত্রার শেষ দিনে আজ (শুক্রবার) দূরপাল্লার যাত্রী না থাকায় কাউন্টারের ভেতরে অলস সময় কাটাচ্ছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। কেউবা আবার কাউন্টার ছেড়ে রাস্তায় নেমে যাত্রীর খোঁজে হাঁকডাক দিচ্ছেন। তবু দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ঘরমুখো মানুষের।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর ১২টায় সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো বাস টার্মিনালই প্রায় যাত্রীশূন্য। হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী এলেও তারা মূলত অগ্রিম টিকিট কাটছেন। ফলে বাসের সিট পূর্ণ করতে বিভিন্ন কাউন্টার মাস্টারকে বাইরে এসে যাত্রী খুঁজতে দেখা যাচ্ছে।
নির্দিষ্ট গন্তব্যের যাত্রী পেলেই দ্রুত বাস ছাড়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে অনেক বাস নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত যাত্রী না পেয়ে তাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছে।
কাউন্টারের সামনে যাত্রী না থাকায় বাইরে এসে টিকিট হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন উত্তরা ইউনিকের কাউন্টার মাস্টার মো. রাসেল। তিনি বলেন, ‘আজ একেবারেই যাত্রী নেই। কাউন্টার থেকে বেরিয়ে যাত্রী খুঁজছি কারণ আয়-উপার্জন নেই, এখনো বেতন-বোনাসও পাইনি। একটি বাস ঢাকা ছাড়লেও ফেরার পথে পুরো খালি আসতে হয়। এতে মালিকের ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান হয়। মালিকের লোকসান মানে আমাদেরও ক্ষতি।’
বিজ্ঞাপন
বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না। মূলত যাত্রীরা পথের মাঝামাঝি নামলেও নিয়ম অনুযায়ী পুরো পথের ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া বাড়তি কিছু নেওয়া হয় না। এবার লোকজন আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ায় এখন যাত্রীচাপ কমে গেছে।
যাত্রীর অভাবে টার্মিনালের সামনে একটি টুলে বসে থাকতে দেখা যায় জে-লাইন পরিবহনের চালক জামিরুলকে। যাত্রীশূন্যতায় তাকে হয়তো রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিষণ্ণ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যাত্রীর অভাবে একরকম বেকার বসে আছি। ইচ্ছা ছিল সকালে বাস ছেড়ে যাত্রী নামিয়ে বাড়ি যাব। কিন্তু এখন রাত ১০টা পর্যন্ত এভাবেই বসে থাকতে হবে। বাড়িতে গিয়ে ঈদ করতে পারব কি না, আল্লাহ ভালো জানেন।’
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, আজ যাত্রী নেই বললেই চলে। তাই কাউন্টারে বসে না থেকে বাইরে এসে যাত্রী খুঁজতে হচ্ছে। গাড়ি ভরলেই কেবল গন্তব্যের উদ্দেশে ছাড়তে পারবেন তারা।
বিজ্ঞাপন
এদিকে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেষ দিনে ভিড় কম থাকায় তারা সহজেই টিকিট পাচ্ছেন। তবে নির্দিষ্ট সময়ের বাস না পেয়ে কিছুটা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সময়েও ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কোনো কোনো যাত্রী।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ঈদযাত্রায় মানুষ আগেভাগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় শেষ দিনে যাত্রীসংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। ফলে পরিবহনের সংখ্যা থাকলেও যাত্রীসংকট দেখা দিয়েছে।
এমআরআর/বিআরইউ