ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলো

সাগর আর পাহাড়ের মিতালির শহর চট্টগ্রামে বইছে ঈদের আগাম আনন্দ। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিনোদনের খোঁজে বের হওয়া পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত বন্দরনগরী। নীল জলরাশি থেকে পাহাড়ের সবুজ গালিচা– সবখানেই এখন সাজ সাজ রব। দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে নগর ও আশপাশের বিনোদনকেন্দ্রগুলোকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবছরের মতো এবারও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। এছাড়া ফয়’স লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, বাঁশখালী ইকোপার্ক, পারকি সমুদ্রসৈকত ও সিআরবিসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের আমেজে মানুষের ভিড় জমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, ঈদের ছুটিতে ব্যাপক লোকসমাগম হবে। এজন্য চিড়িয়াখানায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। এবার প্রায় ৭০ হাজার দর্শনার্থী আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
শুধু শহর নয়, চট্টগ্রামের আশপাশের প্রাকৃতিক নিসর্গগুলোতেও এবার ভিড় বাড়বে। মহামায়া লেক, ভাটিয়ারি, বাটালি হিল ও ভুজপুরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। এ ছাড়া জেলার ২১টি চা-বাগান প্রতি ঈদেই ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন ব্যবসায় কিছুটা মন্দা থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় তাঁরা আশাবাদী। এরই মধ্যে নগরীর আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং বাড়তে শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন
ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সাগরের ঢেউ আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে সেখানে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ঘিরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। এই টানেল দেখার পাশাপাশি অনেকেই পারকি সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে ফয়’স লেকের অ্যামিউজমেন্ট পার্কে এবার থাকছে টর্নেডো ৩৬০ ডিগ্রি, এয়ারবোর্ন শট, ফ্লাইং বাস, স্কাই হুপার ও সান-মুনের মতো আকর্ষণীয় সব রাইড। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে পনি অ্যাডভেঞ্চার ও বেবি ড্রাগনসহ নানা আয়োজন। লেকের স্বচ্ছ পানিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও কায়াকিংয়ের সুবিধা।
লেকের অপর প্রান্তে ‘সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক’-এ ওয়েভ পুল ও ড্যান্সিং জোনসহ বিভিন্ন জলরাইড উপভোগের সুযোগ থাকছে। ফয়’স লেক কমপ্লেক্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ড-এর বিপণন ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘দীর্ঘ ছুটিতে পাহাড় ও লেকের পাহাড়ি পরিবেশে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আমাদের পূর্ণাঙ্গ আয়োজন রয়েছে। দূর থেকে আসা অতিথিদের জন্য লেকভিউ রিসোর্ট ও বাংলোতে থাকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
ট্যুরিস্ট পুলিশের পতেঙ্গা জোনের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাসান ইমাম জানান, ঈদের আনন্দ যাতে বিষাদে রূপ না নেয়, সে জন্য পতেঙ্গাসহ চট্টগ্রামের সব পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরএমএন/বিআরইউ