ঈদে সেমাই-চিনিতে স্বস্তি, টমেটো-মশলায় বাড়তি চাপ

রাত পোহালেই ঈদ। আনন্দের এ উৎসবকে আরও রঙিন করতে ঘরে ঘরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঈদের সকালে সেমাই-মিষ্টান্ন না হলে যেন আনন্দটাই অপূর্ণ থেকে যায়। আর দুপুরের পাতে চাই মাংসের আয়োজন। তবে এবার সেমাই-চিনিতে স্বস্তি থাকলেও মাংস রান্নার অন্যতম উপকরণ মসলার দাম বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। টমেটো-শসার দামও কেজিতে বেড়েছে ১৫-২০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। যদিও বৃষ্টির কারণে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে। আবহাওয়ার প্রভাবে প্রত্যাশার তুলনায় বেচাকেনা কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ঈদে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য চিনি গুঁড়া বা পোলাওর চাল। মানভেদে এ চালের কেজি এখন ১৫০-১৬০ টাকা। প্যাকেটজাত চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা। এছাড়া খোলা লাচ্ছা সেমাই কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত সেমাই কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকায়। অর্থাৎ ২০০-২২০ টাকায় মিলছে ৫০০ গ্রামের লাচ্ছা সেমাইয়ের প্যাকেট। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে ২০০-৩০০ টাকা। তুলনামূলক এলাচের দাম বেড়েছে বেশি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০০ টাকা। যা সপ্তাহ কয়েক আগে ছিল ৫ হাজার টাকা। মানভেদে জিরার কেজি ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গের দাম বেড়ে এখন প্রায় ২ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি, ধনিয়া, তেজপাতা, জায়ফল, জয়ত্রির দামও কিছুটা বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বিজ্ঞাপন

ঈদের আগের দিনের বাজারে টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। যা দুদিন আগেও ৪০ টাকায় পাওয়া যেতো। কেজিপ্রতি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।
মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় জননী জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা তারেক বলেন, ঈদের আগেই বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে। পাইকারিদের কাছে আমাদের বাড়তি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এজন্য খুচরা বাজারে কিছুটা বেশি দামে কিনতে হয় ক্রেতাদের। তবে দাম বাড়ার কারণ জানা নেই। এছাড়া ঈদের শেষ বাজারে বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রিও তেমন হচ্ছে না।

জোয়ার সাহারা বাজারের বিক্রেতা হাবিব জানান, প্রতি বছরের মতোই সেমাইয়ের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম আগের মতোই। তবে এবার আগেভাগে ছুটি হয়ে যাওয়ায় প্রায় সব মানুষ গ্রামে চলে গেছেন। এজন্য শেষ মুহূর্তে ক্রেতার চাপ খুব বেশি নেই।
বিজ্ঞাপন

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগের দিন হলেও বৃষ্টির কারণে বাজারে প্রত্যাশিত ভিড় নেই। ফলে বেচাকেনা কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে সেমাই-চিনির দাম স্থিতিশীল থাকলেও মশলা ও কিছু সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এমআরআর/এমএন