কারাগারে ঈদ আনন্দ : মুড়ি-পায়েস খেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতেছেন বন্দিরা

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। বাইরের পৃথিবীর মতো এই আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে চার দেয়ালের বন্দিজীবনেও। সারা দেশের মানুষ যখন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ উদ্যাপন করছেন, সেই আনন্দ থেকে বাদ যাননি কারাগারের বন্দিরাও।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের স্বজনদের ছেড়ে দূরে থাকলেও বন্দিরা যাতে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও আনন্দময় পরিবেশে ঈদ কাটাতে পারেন, সে জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) সূত্রে জানা গেছে, আজ (শনিবার) সকাল আটটায় কারাগারে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব জামাতে কারাবন্দি ও কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা (স্টাফ) অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে কারাবন্দিদের মাঝে ঈদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। সকালের নাস্তা হিসেবে ছিল মুড়ির পায়েস ও সেমাই। এরপরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অন্যদিকে একটি সূত্র জানায়, বিশেষ কারাগারে সকাল সাড়ে আটটায় আরও একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় বন্দি প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বন্দি ও স্টাফরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। পূর্বনির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী সকালে তাঁদের মুড়ির পায়েস ও সেমাই দেওয়া হয়েছে। খাওয়া শেষে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বন্দিরা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে এসব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং নিজেদের মতো করে সময়টা উপভোগ করছেন।’
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের কারাগারগুলোতে দুই ঈদে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুরের মেনুতে রয়েছে পোলাও, গরুর রেজালা (যারা গরু খান না এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস), সেদ্ধ ডিম, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭৩টিতে বর্তমানে বন্দি রয়েছে। বর্তমানে সারা দেশের কারাগারগুলোতে হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে মোট বন্দির সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০।
বিজ্ঞাপন
ঈদের দিন বন্দিরা স্বজনদের রান্না করা খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে খেলাধুলারও। এ ছাড়া স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে পাঁচ মিনিট কথা বলার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন বন্দিদের নিয়ে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনের মধ্যে এক দিন স্বজনেরা বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি দেখাও করতে পারবেন।
এবারের ঈদ উপলক্ষ্যে বন্দিদের নতুন পোশাকও সরবরাহ করা হয়েছে। কারাগারের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দুস্থ বন্দিদের মাঝে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়েছে। অনেকে পরিবারের পক্ষ থেকেও নতুন পোশাক পেয়েছেন।
এমএসি/বিআরইউ