ঈদের দিনে ডাক্তার না পেয়ে বিপাকে রোগীরা

ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে হাসি-খুশির মুহূর্ত ভাগাভাগি। নতুন পোশাক, ঘুরে বেড়ানো আর সুস্বাদু খাবারের আয়োজনে ভরে ওঠে অধিকাংশ মানুষের দিন। কিন্তু এই উৎসবের রঙ সবার জীবনে সমানভাবে লাগে না। কারও ঈদ কাটে হাসপাতালের বেডে, ব্যথা-যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।
বিজ্ঞাপন
এমনই এক বাস্তবতা চোখে পড়েছে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে। যেখানে ঈদের দিনেও চিকিৎসা পাওয়ার আশায় ছুটে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বরত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, দেরিতে সেবা এবং অবহেলার কারণে উৎসবের দিনটি পরিণত হয়েছে উৎকণ্ঠা আর হতাশার দিনে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন জুয়েল বলেন, সকাল থেকেই হাসপাতালে বসে আছি। একের পর এক সময় পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো কোনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। রোগী নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ঈদের দিন বলে কি আমাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই? আমরা কি মানুষ না? অসুস্থ মানুষ কি উৎসব বোঝে? যদি এই দিনেও হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পাই, তাহলে আমরা কোথায় যাবো, কার কাছে যাবো?
লুবনা আক্তার নামে এক রোগীর মা বলেন, আমার মেয়ে খুবই অসুস্থ। ওকে নিয়ে ভোর থেকে হাসপাতালে ছুটে এসেছি। বারবার ডাক্তারদের খোঁজ নিচ্ছি, বারবার বলছি একবার এসে দেখে যান, কিন্তু এখনো কেউ আসেননি। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য আতঙ্কের হয়ে উঠছে। কী করবো, কোথায় যাবো কিছুই বুঝতে পারছি না। মেয়ের অবস্থা দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে, অথচ এই অবস্থায়ও আমরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছি না, এটা সত্যিই অসহনীয়।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জয়ন্ত সাহা বলেন, সব ওয়ার্ডে ডাক্তার পাঠানো হয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে ডাক্তার স্বল্পতা রয়েছে, বর্তমানে একজন দায়িত্বে আছেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি; যদি তিনি রাউন্ডে না গিয়ে থাকেন, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার রয়েছেন। রোগীরা ডাক্তার পাবেন না, এমন কোনো সুযোগ নেই।
রেদওয়ান মিলন/এমএসএ