ঈদের ছুটিতে নিস্তব্ধ নগরীর ভিন্ন রূপে ঢাকা

চিরচেনা যানজট নেই, নেই হর্নের অসহনীয় শব্দ। ফুটপাতে নেই কর্মজীবী মানুষের ছুটোছুটি, আর মোড়ে মোড়ে নেই বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড়। নাড়ির টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানীর সিংহভাগ মানুষ এখন গ্রামে। ফলে চিরচেনা ঢাকা এখন আক্ষরিক অর্থেই এক নিস্তব্ধ নগরী। ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীজুড়ে বিরাজ করছে এক ভিন্ন আমেজ।
বিজ্ঞাপন
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার থেকে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। বেসরকারি কর্মজীবীদের কাজে ফিরতেও আরও দু-একদিন সময় লাগবে। ফলে রাজধানীর সড়কগুলো এখন অনেকটাই জনশূন্য। সিংহভাগ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনো খোলেনি। যে দু-একটি দোকান খোলা আছে, সেখানেও ক্রেতার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এমনকি কাঁচাবাজারে বিক্রেতারা নতুন করে পণ্য তুলছেন না, কারণ বাজারে ক্রেতা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিন ঢাকা এমন ফাঁকা রূপেই থাকবে।

সড়কে অল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে থেমে থেমে চলছে গণপরিবহন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সারি সারি সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যাত্রী না থাকায় চালকদের অলস সময় কাটছে। অন্য সময়ে রাইড শেয়ারিং বাইকারদের সরব উপস্থিতি থাকলেও এখন তা হাতেগোনা।
সাভার থেকে গাবতলী ও মহাখালী হয়ে নতুন বাজারে যাওয়া রইছ পরিবহনের চালক ইউসুফ আলী বলেন, “ঢাকায় মানুষ নেই বললেই চলে। অল্প যাত্রী নিয়ে চলাচল করছি, তেলের টাকাই ঠিকমতো উঠছে না। আজ ঈদের চতুর্থ দিন (উৎস অনুযায়ী), অথচ সকাল থেকে যাত্রী পাচ্ছি না। এমন ফাঁকা ঢাকা আগে কখনো দেখিনি।”
বিজ্ঞাপন
ফার্মগেট এলাকায় যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা সিএনজি চালক হাবিবুর রহমান জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র একটি ট্রিপ পেয়েছেন তিনি। তার মতে, গত দুই-তিন বছর ধরে ঈদের ছুটি বেশি হওয়ায় মানুষ দীর্ঘ সময় ঢাকার বাইরে থাকছে, ফলে শহর অনেক দিন ফাঁকা থাকছে।
বাড্ডা এলাকার মুদি দোকানি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সকাল সকাল দোকান খুলে বসে আছি, কিন্তু ক্রেতা নেই। পুরো এলাকা মিলে হাতেগোনা কয়েকটি দোকান খোলা। মানুষ না ফিরলে ঢাকা স্বরূপে ফিরবে না।” রামপুরা এলাকার রিকশাচালক খোরশেদ মিয়ার অভিজ্ঞতাও একই। তিনি জানান, খুব সকালে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত মাত্র তিনজন যাত্রী পেয়েছেন।
মহাখালী এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সড়কে কোনো যানজট নেই, গাড়ির সংখ্যাও খুব কম। গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িও হাতেগোনা। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ ফিরতে শুরু করলে ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে রাজধানী।”
বিজ্ঞাপন
ঢাকার এই শান্ত ও নিস্তব্ধ রূপ আরও দুই-তিন দিন বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএসএস/বিআরইউ