অসাম্প্রদায়িক ও নারী নির্যাতনমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান মহিলা পরিষদের

মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে একটি আধুনিক, উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৫ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারী-পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। লাখো বাঙালির প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা বাংলাদেশের মানুষের আত্মচেতনা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার চিরস্থায়ী মাইলফলক। মুক্তিযুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের চেতনাকে ধারণ ও রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী, নারী ও শিশু নির্যাতনকারী এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র জামাত-শিবির এদেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও চিকিৎসকসহ মুক্তিকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। এই চক্রটি এখনো বাঙালির সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল অর্জনসমূহ নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক, সমতাভিত্তিক ও মুক্তচিন্তার নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পথে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে, মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য ও নির্যাতনমুক্ত পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী ও মৌলবাদী চক্রের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও নারীবিদ্বেষী প্রচারণা বন্ধের দাবি জানায়। একইসঙ্গে ’৭২-এর সংবিধানে বিশ্বাসী একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, জেন্ডার সংবেদনশীল ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। নারীসমাজসহ দেশের সকল সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি আধুনিক এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া আসন্ন মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
/এমএইচএন/এমএসএ