স্বাধীনতা দিবসে শিশুদের নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে অভিভাবকদের ভিড়

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পাঠ্যবইয়ের পাতায় পড়া মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আর বীরত্বের নিদর্শনগুলো সশরীরে দেখাতে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন জাদুঘর প্রাঙ্গণে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভিড় কিছুটা কম দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে দর্শনার্থীরা জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বড় কোনো জটলা দেখা না গেলেও দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া ছিল অব্যাহত। ৫টার পর গ্যালারি বন্ধ হয়ে গেলেও অনেক দর্শনার্থী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জাদুঘরের সীমানা প্রাঙ্গণে সময় কাটান। দর্শনার্থীরা অনেকটা ফাঁকা দূরত্ব বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শনগুলো দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
টিকিট কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য জাদুঘরের প্রবেশমূল্য ৪০ টাকা এবং ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য ২০ টাকা। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা।
জাদুঘরে আসা অভিভাবকদের বড় অংশই ছিলেন শিশুদের নিয়ে। তারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শনগুলো যেন শিশুরা সশরীরে দেখতে পারে, সে জন্য তাদের সঙ্গে আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে এসব নিদর্শনের বর্ণনা থাকলেও সরাসরি দেখলে তা শিশুদের মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে দুপুরে জাতীয় জাদুঘরে এসেছিলেন লিমন শেখ। তিনি জানান, তার বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়লেও তারা সরাসরি নিদর্শনগুলো দেখেনি। নিদর্শনগুলো সরাসরি দেখানোর লক্ষ্যেই সন্তানদের নিয়ে এসেছেন তিনি।
লিমন শেখের মতো আরও অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে এসেছিলেন। তাদেরই একজন তানিশা ইসলাম রুম্পা। স্বামী ও মেয়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা রুম্পা জানান, অনেক দিন ধরেই মেয়েকে জাতীয় জাদুঘর দেখানোর কথা ভাবছিলেন, কিন্তু সময় ও সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আজ ছুটির দিনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সবাই মিলে এই স্থানটি বেছে নিয়েছেন। বিকেল ৩টার দিকে এসে তারা প্রায় ২ ঘণ্টার মতো ঘুরে দেখেছেন।
রুম্পা আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের এসব নিদর্শন অনেক পুরোনো। এগুলো দেখে তখনকার যুদ্ধ ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।’
বিজ্ঞাপন
দেশি দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটকেও জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। বিকেলে তাদের কাউকে কাউকে হাতে ক্যামেরা নিয়ে জাদুঘরের গ্যালারিগুলো ঘুরে দেখতে দেখা যায়।
এমএমএইচ/বিআরইউ